শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

|

আষাঢ় ১৮ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

বিকাশের টাকা লুট করতেই মোতালেবকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে জাকির 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৬:০৬, ৩ জুলাই ২০২৬

বিকাশের টাকা লুট করতেই মোতালেবকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে জাকির 

ফাইল ছবি

কোনো পূর্বশত্রুতা নয়, কেবল বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা আত্মসাৎ করার লোভেই নৃশংসভাবে খুন হতে হয়েছে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বৃদ্ধ ব্যবসায়ী মো. মোতালেব হোসেনকে (৬১)। 

পুলিশি তদন্ত ও গ্রেফতারকৃত মূলহোতা জাকিরের প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মোতালেব হোসেনের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করার পর, ঘটনা ধামাচাপা দিতেই তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। 

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ফতুল্লার মাসদাইর বাজারে লাইব্রেরি ও বিকাশ এজেন্টের ব্যবসা করতেন মোতালেব হোসেন। তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা থাকে এমন ধারণা থেকেই তাকে টার্গেট করে স্থানীয় জিন্নাহর ছেলে জাকির (৫০)। মূলত বিকাশ অ্যাকাউন্টের পুরো টাকাটা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল এই হত্যাকাণ্ডের একমাত্র উদ্দেশ্য। এই উদ্দেশ্য সফল করতে ঘটনার দিন সকাল ৮টা থেকেই রাস্তার মোড়ে ব্যবসায়ী মোতালেবের জন্য ওত পেতে অপেক্ষা করতে থাকে জাকির। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোতালেব হোসেন হেঁটে যাওয়ার সময় জাকির অত্যন্ত সুকৌশলে তার কাঁধে হাত দিয়ে কথা বলতে বলতে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়, যা পরবর্তী সময়ে সিসিটিভি ফুটেজেও স্পষ্ট দেখা গেছে।

ফ্ল্যাটে আটকে রেখে জোরপূর্বক মোতালেব হোসেনের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৮৬ হাজার টাকা ক্যাশ আউট করে নেওয়া হয়। টাকা লুটের পরপরই অপরাধ ঢাকতে তাকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যা শেষে দিনভর মরদেহ ঘরেই লুকিয়ে রাখা হয় এবং পরে গভীর রাতে বা ভোরের দিকে লাশ লেপ-তোশকে পেঁচিয়ে একটি অটোরিকশাযোগে জামতলা হাজী ব্রাদার্স রোডের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় খুনিরা।

​বৃহস্পতিবার সকালে ফতুল্লার জামতলা এলাকার সড়কের পাশ থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর ছায়াতদন্তে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ ও আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এই ঘটনায় বন্দর থানার সেল সাবদী এলাকা থেকে মূলহোতা জাকির এবং মাসদাইর এলাকা থেকে তার দুই সহযোগী ওমর ফারুক ও সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর তাদের কাছ থেকে নিহতের বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ক্যাশ আউট করা নগদ ৮৬ হাজার টাকা, হত্যাকাণ্ডে ও লাশ পরিবহনে ব্যবহৃত অটোরিকশা, তিনটি মোবাইল ফোন এবং নিহতের ব্যবহৃত একটি টিফিন বক্স উদ্ধার করা হয়।

​ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, তদন্তে এটি শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি একটি পরিকল্পিত ও অর্থ আত্মসাৎকেন্দ্রিক হত্যাকাণ্ড। বিকাশ অ্যাকাউন্টের টাকা লুটের উদ্দেশ্যেই ব্যবসায়ী মোতালেবকে কৌশলে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়েছে। মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার এবং লুটের ৮৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব হলেও মামলার বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। 

এই নৃশংস ঘটনায় নিহতের মেয়ে সুমনা আক্তার মিম বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।