শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

|

আষাঢ় ১৮ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ভরা বর্ষায়ও কমেনি বাজারদর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৬:৩৪, ৩ জুলাই ২০২৬

ভরা বর্ষায়ও কমেনি বাজারদর

ফাইল ছবি

ভরা বর্ষা মৌসুমেও নারায়ণগঞ্জের কাঁচাবাজারে স্বস্তি নেই। বরং অধিকাংশ সবজি, চাল, মাছ, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ মাসের সংসার খরচ মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে শহরের  দ্বিগুবাবুর বাজারে ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে। 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্ষাকালে সাধারণত সবজির সরবরাহ বাড়লেও এবার বাজারে তার প্রভাব নেই। অধিকাংশ সবজির দাম এখনও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

বাজারে প্রতি কেজি পটল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙা ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ৯০ টাকা এবং পেঁপে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি শসার কেজি ১০০ টাকার বেশি হলেও হাইব্রিড শসা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। এছাড়া কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, করলা ও উচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং সজনের ডাঁটা ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাকের বাজারেও নেই স্বস্তি। পুঁইশাকের আঁটি ৩০ টাকা, লাউশাক ৩০ টাকা, লালশাক ২০ টাকা এবং কলমি শাক ১০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

চালের বাজারেও ঊর্ধ্বগতির ধারা অব্যাহত রয়েছে। দেশি চিকন চালের কেজি ৮৫ টাকা, মাঝারি মানের চিকন চাল ৬৫ থেকে ৭৫ টাকা, পাইজাম চাল ৬০ টাকা এবং গুটি চাল ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চাষাঢ়া এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল হালিম বলেন, “চালের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে একসঙ্গে এক মাসের চাল কিনতাম, এখন অল্প অল্প করে কিনতে হচ্ছে। বাজারে গেলে বাজেটের সঙ্গে হিসাব মেলে না।”

মুরগির বাজারেও বেড়েছে দাম। ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা, সোনালি ৩৪০ টাকা, হাইব্রিড সোনালি ৩০০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬২৫ থেকে ৬৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা অভিযোগ করেন, বাজারে অধিকাংশ দোকানে মূল্যতালিকা টাঙানো নেই। ফলে একই পণ্য বিভিন্ন দোকানে ভিন্ন ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজার মনিটরিংয়ের অভাবেও অনেক ব্যবসায়ী ইচ্ছামতো দাম নিচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের।

দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম বলেন, “সবজির দাম বেশি, মুরগির দামও বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক পণ্যের দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এখন বাজার করতে গেলে আগের তুলনায় অনেক বেশি টাকা নিয়ে বের হতে হয়।”

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। কাঁচকি মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, পাবদা ৬০০ টাকা, বাইন মাছ ৮০০ টাকা এবং বড় রুই-কাতলা ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি কই মাছের কেজি ৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ইলিশের বাজারেও উচ্চ দাম বহাল রয়েছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার ৫০০ টাকা, ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ৮০০ টাকা এবং ছোট আকারের ইলিশ ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং বকরির মাংস ১ হাজার ৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ডিমের হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়।

মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, দেশি রসুন ৮০ থেকে ১২০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১৮০ টাকা এবং আদা ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলুর দামও বেড়ে প্রতি কেজি ৩০ টাকায় উঠেছে।

বিক্রেতাদের দাবি, বর্ষাকাল, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কিছু পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে বাজারে দাম বাড়তি রয়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, আয় না বাড়লেও প্রতিনিয়ত নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। ফলে সংসারের ব্যয় সামাল দিতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।

এদিকে বাজারে কার্যকর মনিটরিং ও মূল্যতালিকা প্রদর্শনের ওপর জোর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন ক্রেতারা। তাদের মতে, নিয়মিত তদারকি বাড়ানো গেলে বাজারে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরতে পারে।