বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

|

ভাদ্র ৩ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

সমঝোতা চায় ছাত্রদল, বারবার বৈঠক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১১:২৯, ১৯ আগস্ট ২০২৬

সমঝোতা চায় ছাত্রদল, বারবার বৈঠক

সমঝোতা বৈঠক

নারায়ণগঞ্জে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষ এবং ছাত্রাবাসে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধ মেটাতে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। বিরোধ নিরসনে শিবিরের কার্যালয়ে গিয়ে আলোচনা করেছেন মহানগর ছাত্রদলের নেতারাও। শেষ পর্যন্ত ছাত্রাবাস থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠা দুটি ল্যাপটপ ও তিনটি মোবাইল ফোনের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি নেতারা রাজি হওয়ায় সমঝোতায় আসে দুই পক্ষ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে শহরের কালীরবাজার এলাকায় দুই পক্ষের নেতাদের উপস্থিতিতে সর্বশেষ সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদসহ বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে মহানগর ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছাত্রাবাসে থাকা শিবিরের নেতাকর্মীদের দুটি ল্যাপটপ ও তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। পরে বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় ওই দুটি ল্যাপটপ ও তিনটি মোবাইলের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি নেতারা সম্মত হন।

বিরোধ মেটাতে এর আগেও উদ্যোগ নিয়েছিলেন ছাত্রদলের নেতারা। গত ১০ আগস্ট শহরের মিশনপাড়া এলাকায় ছাত্রশিবিরের কার্যালয়ে গিয়ে শিবির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন মহানগর ছাত্রদলের নেতারা। ওই সময়ও বিরোধ মিটিয়ে ফেলার বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় তখন বিষয়টির পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এর আগে ৫ আগস্ট দুপুরে শহরের চাষাঢ়া ও কলেজ রোড এলাকায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষের পর নারায়ণগঞ্জ শহরের সরকারি তোলারাম কলেজের ছাত্রাবাসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে কলেজ শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শহরের ইসদাইর এলাকার শের-ই বাংলা ছাত্রাবাসে ঢুকে বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলেও দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হওয়ায় এবার দুই পক্ষের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।