ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। চলতি আগস্ট মাসেই এখন পর্যন্ত ৩৩৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯৭ জনে। তবে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ দৈনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ১১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে ১১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯ জন। তবে এ সময়ে কোনো রোগীকে অন্যত্র রেফার করা হয়নি এবং ডেঙ্গুজনিত মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেনি।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বলছে, আগস্ট মাস শুরু হওয়ার পর থেকেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। চলতি মাসের ১৬ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩৪ জনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে চলতি বছরের গতকাল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮৮৬ জন। আজকের ১১ জনসহ বছরের মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৯৭ জনে।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৭৭০ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ডেঙ্গু রোগী। তবে বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর তথ্য নেই।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় মশার বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পানি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকার কারণে এডিস মশার বংশবিস্তারের আশঙ্কা বাড়ে। ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে গত বছরের অভিজ্ঞতায় ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট নিয়ে সংকট তৈরি হওয়ায় এবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মুশিউর রহমান বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিতে স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করছে পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতেও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটের বিষয়ে তিনি বলেন, গত বছর ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছিল। তবে এবার পর্যাপ্ত কিট মজুদ রয়েছে। আশা করছি, এ বছর কিটের কোনো সংকট হবে না।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি জ্বর বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

