ফাইল ছবি
অবশেষে গত রাতে ফিফার নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়েই নতুন মৌসুমের দল গঠনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ঢাকা আবাহনী।
আবাহনীর এ যাত্রাও হচ্ছে কিছুটা নতুনভাবে। নতুন ম্যানেজার আবাহনীরই সাবেক ফুটবলার ও নারায়ণগঞ্জের চেনা মুখ শহীদ হোসেন স্বপন। আবারও প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন মারুফুল হকই। কোচ-ম্যানেজার দুজনই বলেছেন, তাঁদের মৌখিকভাবে দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে। কোনো চিঠি এখনো তাঁরা পাননি। তবে দুজনই কাজ শুরু করে দিয়েছেন।
আবাহনীর ওপর মোট তিনটি নিষেধাজ্ঞা ছিল। এর মধ্যে দুটি আগেই প্রত্যাহার করা হয়। গত রাতে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞাটিও উঠে গেছে।
নিষেধাজ্ঞা উঠলেও দল গঠনে নেমে খেলোয়াড়ের সংকটে পড়েছে আবাহনী। কোচের ভাষায়, পছন্দের ফুটবলার পাওয়া যাচ্ছে না। বসুন্ধরা কিংস থেকে সাতজন দেশি ফুটবলার নিয়েছে মোহামেডান। কিংস থেকে চাইলে আবাহনীও খেলোয়াড় নিতে পারে, কিন্তু তাদের সেই বাজেট নেই। ফলে বড় কোনো নামের দিকে হাত বাড়াতে পারছে না ক্লাবটি।
কোচ মারুফুল হক সে কথাই বললেন, ‘ক্লাব থেকে আমার কাছে একটা খেলোয়াড় তালিকা চেয়েছে কাল রাতে। সেটা পেয়ে এখন আমি খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলছি। অন্য ক্লাবের যার সঙ্গে কথা বলছি, সে-ই বলছে সাইন করে ফেলেছে। খেলোয়াড় পেতে কষ্ট হচ্ছে।’
তারপরও মারুফুল হক এখন পর্যন্ত খেলোয়াড় তালিকায় কাদের রেখেছেন? আবাহনী কোচের উত্তর, ‘গতবারের রক্ষণের মুরাদ, ইয়াছিন খান, সবুজ, কামরুল আছে তালিকায়। মাঝমাঠে পাপন সিং, শাকিল। ওপরে আল আমিন, মিরাজুল, ইব্রাহিম। মোরছালিন-মিতুলও আছে তালিকায়। তবে এই দুজনের সঙ্গে আমার এখনো কথা হয়নি। আশা করি হবে। ওরা অফিশিয়ালদের সঙ্গে কথা বলুক। আমার কাজ খেলোয়াড় সিলেকশন করে দেওয়া।’
ক্লাবের অন্যতম পরিচালক ও নীতিনির্ধারক বশীর আহমেদ মামুন দল গঠনের দিকটা দেখছেন। বসুন্ধরা কিংসের তারকা খেলোয়াড়দের দিকে হাত বাড়ানো প্রসঙ্গে মারুফুলের সাফ কথা, ‘হাত বাড়ালেই তো হবে না। ক্লাবের বাজেট দেখতে হবে। দলবদলের নিষেধাজ্ঞা তুলতেই অনেক টাকা চলে গেছে ক্লাবের।’
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মারুফুল হক সামনে বড় চ্যালেঞ্জ দেখছেন, ‘এবার দল গঠন কঠিন হবে। কারণ, আমরা নেমেছি একেবারে শেষ দিকে। কিন্তু আবাহনী শুধু খেলার জন্যই খেলে না। সমর্থকদের প্রত্যাশা থাকে ক্লাবের প্রতি। শেষ সময়ে নিষেধাজ্ঞাটা উঠেছে, এখন দেখছি খেলোয়াড়ের সংকট। তারপরও যা আছে, তা নিয়েই টিম করতে হবে। এ পরিস্থিতিতে বিদেশি নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।’
গতবারের দল থেকেও আবাহনীর বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় চলে গেছেন। মালি থেকে আসা তারকা স্ট্রাইকার সুলেমান দিয়াবাতে মোহামেডানে ফিরে গেছেন। জানা গেছে, এবার আবাহনী ছেড়ে ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরা আর আলমগীর মোল্লা গেছেন বসুন্ধরা কিংসে। স্ট্রাইকার এনামুল গাজী গেছেন ঢাকা সিটি ক্লাবে।
ক্লাবের নতুন ম্যানেজার শহীদ হোসেন স্বপন আবাহনীতে ১৯৯০-৯৬ পর্যন্ত খেলেছেন। ১৯৯৭ সালে যান মুক্তিযোদ্ধায়। সাবেক এই মিডফিল্ডার খেলা ছাড়ার পর আবাহনীর কোনো দায়িত্বে ছিলেন না। এই প্রথম কোনো দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পদেও আছেন আড়াই বছর ধরে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে শহীদ উদ্দীন স্বপন বলেন, ‘কাল মামুন ভাই ডেকেছিলেন। বলেছেন, তোমাকে দায়িত্ব দিতে চাই। কীভাবে আমাকে চয়েস করছেন, আশ্চর্য হলাম। আমি প্রস্তুত ছিলাম না এমন কিছুর জন্য। তবে আমি দায়িত্বটা সানন্দে পালন করব।’
স্বপন আরও বলেন, ‘খেলোয়াড়দের সঙ্গে আজকে বসার কথা মামুন ভাইয়ের। আমি, মারুফ ভাইও থাকতে পারি। টিম একটা করা আছে। রুপুদা কথা বলে রেখেছিলেন। এখন দল গঠনের মৌখিক আলোচনা চলছে। দেখা যাক কী হয়।

