ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে সরকারি ওয়াকিটকি, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ ৫২ হাজার ৫৭০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি সাহেব আলীকে গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় রাতেই চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, সাহেব আলী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং তার বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আটি ওয়াবদা কলোনি এলাকায় চুরি যাওয়া একটি মোবাইল ফোন উদ্ধারে গিয়ে হামলার শিকার হন পুলিশের তিন সদস্য। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই মোহাম্মদ স্বপন, কনস্টেবল মনির হোসেন ও কনস্টেবল আবু হানিফ আহত হন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এএসআই স্বপনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধারে আটি হাউজিং এলাকায় যায়। সেখানে মোবাইল উদ্ধারের বিষয়ে কথা বলার একপর্যায়ে সাহেব আলীসহ তার সহযোগীরা ধারালো চাপাতি, দা, সুইচ গিয়ার, লোহার রড, এসএস পাইপ ও বাঁশের লাঠি নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় সাহেব আলী ধারালো চাপাতি দিয়ে এএসআই স্বপনের মাথার পেছনে ও ডান হাতে কোপ দেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে লোহার রড দিয়ে তার মুখে আঘাত করা হয়। সহকর্মী কনস্টেবল মনির হোসেন এগিয়ে এলে তাকেও ধারালো দা দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়। হামলায় অন্য পুলিশ সদস্যরাও মারধরের শিকার হন।
হামলার একপর্যায়ে এএসআই স্বপনের কাছ থেকে একটি সরকারি MOTOROLA ওয়াকিটকি, OPPO A16 ও Samsung Galaxy A15 5G মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫২ হাজার ৫৭০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময় কনস্টেবল মনির হোসেনের কাছ থেকে একটি VIVO মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আহত পুলিশ সদস্যদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে পুলিশের খবর দেন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। এএসআই স্বপন ও কনস্টেবল মনির হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় এএসআই মোহাম্মদ স্বপন বাদী হয়ে সাহেব আলীকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, “পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় সাহেব আলীকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। রাতেই অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন—আব্দুল্লাহ, নাঈম হোসেন আলেক ও ইকবাল হোসেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাহেব আলীর বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বউবাজার এলাকায় তাকে গ্রেপ্তার করতে সাদা পোশাকে অভিযান চালায় র্যাবের একটি দল। ওই অভিযানে সাহেব আলীকে আটক করা হলেও তার সহযোগীরা র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় র্যাব সদস্যসহ চারজন আহত হন।
পরে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে সুনামগঞ্জ থেকে র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সাহেব আলীকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।
এক বছরেরও কম সময়ের ব্যবধানে ফের পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা এবং সরকারি সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশ বলছে, মামলার সব আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

