বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

|

ভাদ্র ৩ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ফতুল্লায় সওজের জমি দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের হাতাহাতি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২১:৪৭, ১৯ আগস্ট ২০২৬

ফতুল্লায় সওজের জমি দখল নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের হাতাহাতি

প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চলার মধ্যেই ওই জমি দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৯ আগষ্ট) দুপুরে ফতুল্লার চাঁদমারী এলাকায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে সওজের জায়গা দখল করে স্থানীয়দের একটি অংশ শতাধিক দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। বুধবার দুপুরে সওজ বিভাগের কর্মকর্তারা এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেন।
অভিযান চলাকালে সেখানে উপস্থিত হন ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসান মোহাম্মদ পলাশ, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। একই সময়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপুর নেতৃত্বে আরেকটি পক্ষ সেখানে আসে।
এ সময় ট্যাক্সিস্ট্যান্ডের নেতারা উচ্ছেদ শেষে চাষাঢ়া থেকে ট্যাক্সিস্ট্যান্ডটি চাঁদমারী এলাকায় স্থানান্তরের কথা জানান। এতে ফতুল্লা ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা আপত্তি জানান। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি ও উত্তেজনা দেখা দেয়।
এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা পরস্পরকে ধাক্কাধাক্কি ও এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু বলেন, সড়ক প্রশস্ত করার জন্য সরকার তার নিজস্ব জায়গা উদ্ধার করে কাজ করতে পারে। জনগণের স্বার্থে এ কাজ করা হচ্ছে। এখানে কারও বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। বর্তমানে ট্যাক্সিস্ট্যান্ড যেখানে রয়েছে, ওই জমি সেনাবাহিনীর। এ কারণে ট্যাক্সিস্ট্যান্ডটি চাঁদমারী এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ এতে বাধা দিলে জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
ফতুল্লা মডেল থানার এসআই আশীষ কুমার দাস বলেন, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অন্যদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ তাদের উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সওজের জমিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে নতুন করে ট্যাক্সিস্ট্যান্ড স্থাপনের বিষয়টি সামনে আসায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সরকারি জমির ব্যবহার ও ট্যাক্সিস্ট্যান্ড স্থানান্তরের বিষয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত দ্রুত স্পষ্ট করা না হলে এ নিয়ে ফের বিরোধের আশঙ্কা রয়েছে।