ফাইল ছবি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এবার দেখা যাবে এক ভিন্ন চিত্র। দেশের অন্যতম পরিচিত দুটি রাজনৈতিক প্রতীক বিএনপির ‘ধানের শীষ’ ও জামায়াতের ‘দাঁড়িপাল্লা’ এই আসনে থাকছে না। জোটগত সমঝোতার কারণে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল এই আসনটি তাদের শরীক দলগুলোর জন্য ছেড়ে দিয়েছে।
বিএনপি তাদের জোট শরীক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমীকে এই আসনে সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন এনসিপির আব্দুল্লাহ আল আমিন। ফলে দুই বড় দলের নিজস্ব প্রতীক নিয়ে কোনো প্রার্থীই এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটারদের মধ্যে কিছুটা ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যারা ধানের শীষ কিংবা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে আসতেন, তারা এবার পরিচিত প্রতীক খুঁজে পাবেন না ব্যালটে। স্থানীয়ভাবে আলোচনায় রয়েছে এ কারণে অনেক ভোটার প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি, গ্রহণযোগ্যতা ও অতীত কর্মকাণ্ডকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এবার ভোট হবে মূলত ব্যক্তি ইমেজের ভিত্তিতে। কে কতটা এলাকায় পরিচিত, কার সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ বেশি, কে কতটা গ্রহণযোগ্য এসব বিষয়ই ভোটের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় ভেটাররা জানান, প্রতীক না থাকলেও ভোটাররা বিভ্রান্ত নন। বরং তারা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে যোগ্য ও পরিচিত প্রার্থী বেছে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেক ভোটারই বলছেন, এবার তারা দল নয়, মানুষ দেখে ভোট দেবেন।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা না থাকায় নির্বাচনের ধরন কিছুটা আলাদা হয়ে উঠেছে। প্রতীকের রাজনীতি থেকে সরে এসে ব্যক্তি ইমেজ ও স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতার রাজনীতি কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

