রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

|

মাঘ ৪ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নিঝুম পল্লি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২২:০৩, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

নিঝুম পল্লি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার দুই

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অজ্ঞাতনামা যুবক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই। 

তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের গাছা ও শ্রীপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তফা কামাল রাশেদ।  

তিনি জানান, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে গাজীপুরের গাছা থানাধীন বগারটেক এলাকা থেকে মো. রুহুল আমীন (৩৯) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বিকেলে গাজীপুরের শ্রীপুর থানাধীন জৈনাবাজার এলাকা থেকে মো. বেলাল ওরফে বিল্লাল হোসেন মানিক মিয়া (৪১) কে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, রূপগঞ্জ থানাধীন দাউদপুর ইউনিয়নের পলখান এলাকায় নিঝুম পল্লি রিসোর্ট চত্বরের দক্ষিণ পাশে রূপগঞ্জ থেকে কালীগঞ্জগামী হাইওয়ে সড়কে গত ১২ জানুয়ারি এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হয়। নিহত ব্যক্তি আবু রায়হান রিপন (৩৫)। তিনি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার বাসিন্দা।

নিহতের ভাই লাল মিয়া রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আবু রায়হান রিপন গত ১০ জানুয়ারি তার দ্বিতীয় স্ত্রী আখি আক্তারের গাজীপুরের বাসন এলাকার ভাড়া বাসায় যান। ১১ জানুয়ারি রাত আনুমানিক পৌনে একটার দিকে তার মোবাইলে একটি ফোন আসে। এরপর রাত একটার পর তিনি বাসা থেকে বের হন এবং আর ফিরে আসেননি। পরদিন রূপগঞ্জ থানার পুলিশ নিঝুম পল্লি রিসোর্টের পাশের সড়ক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। ১৩ জানুয়ারি রূপগঞ্জ থানায় হত্যা ও লাশ গুমের ধারায় মামলা হয়।

মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পিবিআই উদ্যোগে তদন্ত শুরু করে। তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির বিশ্লেষণ ও প্রাপ্ত আলামতের ভিত্তিতে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হয়।

গ্রেপ্তারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। 

পিবিআই জানায়, নিহত আবু রায়হান রিপন ও গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা পূর্বে বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি ও দস্যুতাসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এসব অপরাধ থেকে প্রাপ্ত অর্থের ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে রিপনকে ডেকে নিয়ে এসএস পাইপ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

পিবিআই আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি ও দস্যুতাসহ ১৫ থেকে ২০টি মামলা রয়েছে। ১৮ জানুয়ারি তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে মো. বেলাল আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং সহযোগী অন্যান্য আসামির নাম উল্লেখ করেন।

এ ঘটনায় এর আগে ১৫ জানুয়ারি মো. ইয়াছিন (২৭) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।