রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

|

কার্তিক ১৬ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর কোটি টাকার স্বর্ণ লুট

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১১:৩৮, ১ নভেম্বর ২০২৬

ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ীর কোটি টাকার স্বর্ণ লুট

প্রতীকী ছবি

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয় দিয়ে যাত্রীবাহী বাস থেকে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে নামিয়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার স্বর্ণ ও রুপার অলংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করে হাতকড়া পরানো হয় এবং চোখ বেঁধে একটি নোয়া গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে তার কাছ থেকে অলংকারের পাশাপাশি নগদ ৩০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোনের সিম নিয়ে ঢাকার ডেমরা এলাকায় ফেলে রেখে যায় তারা।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত পৌনে ১০টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পুরিন্দা বাজারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রামপদ দাস (৪২) গত ৩০ অক্টোবর আড়াইহাজার থানায় অজ্ঞাতপরিচয় চারজনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। রামপদ দাস নরসিংদী সদর উপজেলার হাজীপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি নরসিংদী শহরের বাতিলবাড়ী রোডের গেঞ্জিপট্টি মোড়ে ‘নন্দিতা শিল্পালয় অ্যান্ড স্টোর’ নামের একটি গয়নার দোকানের মালিক।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রামপদ দাস তার দোকানের কর্মচারী সাগর দাসকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে স্বর্ণ ও রুপার অলংকার কেনেন। কেনাকাটা শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা গুলিস্তান থেকে মেঘালয় লাক্সারি পরিবহনের একটি বাসে করে নরসিংদীর উদ্দেশে রওনা হন।

তাদের সঙ্গে ছিল প্রায় ৬০ ভরি স্বর্ণ, যার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ছিল ২৯০ ভরি রুপা, যার মূল্য প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের মোট মূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।

অভিযোগে বলা হয়, রাত পৌনে ১০টার দিকে বাসটি পুরিন্দা বাজারসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পুলিশের জ্যাকেট ও হেলমেট পরা চার ব্যক্তি বাসে ওঠেন। তারা রামপদ দাসকে আটক করতে এসেছেন বলে পরিচয় দেন। এরপর তার এক হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেন। রামপদ বাস থেকে নামতে না চাইলে দুর্বৃত্তরা লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করে। একপর্যায়ে টেনেহিঁচড়ে বাস থেকে নামিয়ে একটি নোয়া গাড়িতে তুলে নেয়।

গাড়িতে তোলার পর তার দুই চোখ গামছা দিয়ে বেঁধে দুই হাতে শক্ত করে হাতকড়া পরানো হয়। এরপর মারধর ও হত্যার ভয় দেখিয়ে তার কাছে থাকা ৬০ ভরি স্বর্ণ, ২৯০ ভরি রুপা এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তার চোখের বাঁধন ও হাতকড়া খুলে দেয়। পরে আবার গামছা দিয়ে তার হাত বেঁধে রাখা হয়। তার মোবাইল ফোন থেকে সিম কার্ড খুলে নিয়ে ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়। এরপর ঢাকা-ডেমরা সুলতানা কামাল সেতুর পূর্ব পাশে তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় পেছনে তাকালে গুলি করার হুমকি দিয়ে দ্রুত ঢাকার দিকে চলে যায় গাড়িটি।

পরে স্থানীয় একটি দোকান থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন রামপদ দাস। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন সেখানে গিয়ে তাকে নিয়ে যান। পরে তিনি স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন।

অভিযোগপত্রে দুর্বৃত্তদের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৪৫ বছর বলে উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগী। তাদের মধ্যে কেউ মাঝারি গড়নের, আবার কেউ স্বাস্থ্যবান ছিলেন। সবার পরনে প্যান্ট-শার্ট ও ডিবি পুলিশের জ্যাকেট ছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সবজেল হোসেন বলেন, রামপদ দাস নামে এক ব্যক্তি গত ৩০ অক্টোবর থানায় অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি কোথা থেকে অলংকার নিয়ে আসছিলেন এবং কোথায় যাচ্ছিলেন, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং লুট হওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকার উদ্ধারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।