শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

|

কার্তিক ১৪ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

রূপগঞ্জে ২ যুগেও চালু হয়নি বালু নদের সেতু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৯:৫৩, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

রূপগঞ্জে ২ যুগেও চালু হয়নি বালু নদের সেতু

মানববন্ধন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দীর্ঘ ২ যুগ ধরে অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা বালু নদের ওপর ‘নগরপাড়া সেতু’র কাজ দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন ও চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নগরপাড়া বাজার এলাকায় ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন , ২০০৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের তীব্র যানজট নিরসন এবং রূপগঞ্জ তথা আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টে দেওয়ার লক্ষ্যে এই যুগান্তকারী প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, পরবর্তীতে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল ও কতিপয় রিয়েল এস্টেট আবাসন কোম্পানির সিন্ডিকেটের চক্রান্তে প্রকল্পটির অগ্রগতি পুরোপুরি থমকে যায়। দীর্ঘ ২ যুগ পার হয়ে গেলেও দৃষ্টিনন্দন ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া রূপগঞ্জবাসীর জন্য এক চরম অবহেলা ও দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, তৎকালীন সময়ে ৭.৩০ মিটার চওড়া বিশিষ্ট এই সেতুর প্রাথমিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর সেতুটির মূল অবকাঠামোর একটি বড় অংশ নির্মিত হলেও পরবর্তীতে অদৃশ্য কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ করে দেয়। এরপর টেন্ডার জটিলতা, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব এবং স্থানীয় ও বহিরাগত আবাসন সিন্ডিকেটের বাধার কারণে বছরের পর বছর অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা হয় জনগুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ ও দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলেন, সেতুটি নির্মিত না হওয়ায় ঢাকা শহরের এত কাছে অবস্থান করা সত্ত্বেও রূপগঞ্জ ও কায়েতপাড়া অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে বিকল্প ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন প্রতিদিন সাধারণ মানুষের বিপুল কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে জ্বালানি খরচ ও গণপরিবহন ভাড়া বাবদ গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। বিশেষ করে জরুরি মুমূর্ষু রোগী, বৃদ্ধ এবং স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন সীমাহীন কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, নগরপাড়া সেতুটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে শুধু রূপগঞ্জের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাতেই অভূতপূর্ব বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে না, বরং রাজধানী ঢাকার সাথে সংযোগ স্থাপন নিশ্চিতের পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট বহুগুণে কমে আসবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদের অন্যতম সংগঠক ও প্রতিনিধি আহসান উল্লাহ মাস্টার, অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, রূপগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মামুন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সোহেল খান, বিশিষ্ট ব্যাংকার আবু বকর সিদ্দিক, বাংলাদেশ পাটশিল্প সমিতির সাবেক সভাপতি হাসেন আলী ব্যাপারী, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শিপলুসহ অনেকে।