শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

|

মাঘ ১৯ ১৪২৯

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

যে দাম বেড়েছে তা স্বাভাবিক ও সহনীয় পর্যায় নেই: হাতেম

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৪:১৯, ১৯ জানুয়ারি ২০২৩

আপডেট: ১৪:২৩, ১৯ জানুয়ারি ২০২৩

যে দাম বেড়েছে তা স্বাভাবিক ও সহনীয় পর্যায় নেই: হাতেম

ফাইল ছবি

বাল্ক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ১১ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে। এর ফলে উৎপাদনেও দাম বাড়বে।

শিল্প কারখানায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মনে করছেন উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এ মূল্যবৃদ্ধির আগে সরকার উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিল। তারা সরকারকে বলেছিলেন গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে ২৫ টাকা করলে আপত্তি নেই। তবে গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। তা নাহলে শিল্পে বড় ধরণের সমস্যা তৈরি করবে।

এ বিষয়ে নিট তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) কার্যনির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, গ্যাসের দাম বাড়বে এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এত অস্বাভাবিক প্রত্যাশা করিনি। যে দাম বেড়েছে তা স্বাভাবিক ও সহনীয় পর্যায় নেই।

সরকারকে আমরা বলেছিলাম, প্রতি ইউনিট ২৫ টাকা করতে। যদিও এর থেকে উদ্ভূত মূল্য পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের চলে যেতো; তারপরেও আমরা বলেছিলাম গ্যাস নিরবচ্ছিন্নভাবে সরবরাহ দিতে হবে। কিন্তু আমরা দেখছি ৩০ টাকা করেছে। এটা আমাদের জন্য খুব কঠিন হবে। আমরা সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ জানাবো, গ্যাসের দাম কমিয়ে ২৫ টাকা করা হোক। পাশাপাশি আমাদের অন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা আছে সেগুলো বাড়াতে হবে। যাতে আমরা টিকে থাকতে পারি।

বিকেএমইএ সভাপতি আরও বলেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে নিটের প্রসেসিং ব্যয় বাড়বে ১৫ শতাংশ। এর প্রভাব পড়বে উৎপাদনের ওপর। এ খরচ বৃদ্ধির ফলে আমাদের সক্ষমতা হারাবো। আমরা যদি বায়ারকে বলি গ্যাসের দাম বেড়েছে তাই উৎপাদন খরচ বেড়েছে, প্রতি ডজনে ৫০ সেন্ট বাড়িয়ে দাও; তারা দেবে না। এর পর যদি আমরা কম দামে অর্ডার না নিই তাহলে তারা বিকল্প সোর্সিংয়ে চলে যাবে। এতে আমরা কার্যাদেশ হারাবো।  

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এমনিতেই উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সেটা এয়ারফ্রেইট হোক আর শিপপ্রেইট হোক-উভয় খরচ বেড়েছে। বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে সমস্যা প্রকট করে তুলেছে। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সমস্যা আরও প্রকট হবে। ডাইস কেমিকেল থেকে শুরু করে সব ধরণের মেটা রিয়ালের দাম বেড়েছে। তারপর যদি গ্যাসের বিল বাড়ে তাহলে কস্ট অব ডুইং বেড়ে যাবে। যদিও এ সমস্যা বিশ্বজুড়ে। এর প্রভাব পড়েছে মূল্যস্ফীতিতে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, দাম বাড়ালেও প্রয়োজন মতো গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। তা না হলে বড় ধরনের সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে। এতে পুরো উৎপাদনে ঝুঁকি তৈরি হবে। ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে রপ্তানি আয়ে।