সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

|

চৈত্র ৮ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ডিপোর সামনে শত শত ট্যাংক-লরি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৬:০২, ২৩ মার্চ ২০২৬

ডিপোর সামনে শত শত ট্যাংক-লরি

ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। নারায়ণগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ডিপোগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র চাপ। শত শত ট্যাংক-লরি দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছে না। 

এতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে পড়েছে। 

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পঞ্চবডি এলাকার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র। মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপোর সামনে দেখা গেছে অস্বাভাবিক দৃশ্য। শত শত ট্যাংক-লরি লাইনে দাঁড়িয়ে আছে, তেল সংগ্রহের অপেক্ষায়।

একই চিত্র সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকাতেও। এখানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের আওতাধীন পদ্মা অয়েল কোম্পানি ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিপো থেকে বিমান, সামরিক বাহিনীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে বড় ধরনের চাপ। ডিপোগুলোর সামনে ট্যাংক-লরির লাইন সৃষ্টি হয়েছে।

চালকদের অভিযোগ, ‘সরকার নির্ধারিত কোটার কারণে তারা চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে ৮ থেকে ৯ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি, অর্ধেক দিন চলে যায় শুধু গেট পর্যন্ত যেতে। এরপরও পুরো তেল পাই না।’ 

তারা আরও চলেন, “আমরা এজেন্টদের জন্য তেল তুলতে পারি না। ডিপো থেকে ৮-৯ দিন তেল দেয় না। এতে পাম্পে তেলের সংকট আরও বাড়ছে। আমরা সারাদেশে তেল সরবরাহ করি। আমাদের যদি তেল না দেয়, তাহলে কৃষক, পরিবহন—সব খাতেই সমস্যা হবে “

ডিপোগুলোতে সরবরাহ সীমিত হওয়ায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে বাড়ছে চাপ। এতে পরিবহন খাতসহ কৃষি ও শিল্পখাতেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডিপোগুলোর আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।

জ্বালানি তেলের এই অস্থিরতা দ্রুত সমাধান না হলে এর প্রভাব পড়তে পারে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে।