শনিবার, ২৫ জুন ২০২২

|

আষাঢ় ১০ ১৪২৯

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ত্রুটিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসে ঝুঁকি বাড়ছে লিভারের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৮:২৯, ১৮ জুন ২০২২

ত্রুটিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসে ঝুঁকি বাড়ছে লিভারের

আন্তর্জাতিক ন্যাশ দিবস

ফ্যাটি লিভার বা লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা হওয়ার কারণে লিভারের প্রদাহের নাম ‘ন্যাশ’ (নন-অ্যালকোহলিক স্টিয়াটোহেপাটাইটিস)। ফ্যাটি লিভারের অন্যতম প্রধান কারণ খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইল।

স্থুলতা বা মোটা হওয়া, যথেষ্ট শারীরিক পরিশ্রম না করা, ত্রুটিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস এই রোগের প্রধান ঝুঁকি।

নগরীর রেডিসন ব্লু তে ‘আন্তর্জাতিক ন্যাশ দিবস ২০২২’ উপলক্ষে লিভার কেয়ার সোসাইটি কর্তৃক আয়োজিত ‘স্টপ ন্যাশ নাউ’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে এসব কথা বলেন বক্তারা।  

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. ইসমাইল খান।

এসময় বক্তারা বলেন, আমাদের দেশে ফাস্ট-ফুড কালচার ফ্যাটি লিভারের বাড়তি প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কারণ। এছাড়া যারা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাইপোথাইরয়েডিজম, রক্তে অতিরিক্ত চর্বি বা ডিজলিপিডেমিয়া, হেপাটাইটিস সি এবং মহিলাদের যারা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোমে ভুগছেন তারাও ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত হতে পারেন। কর্টিকোস্টেরয়েড, টেমক্সিফেন ইত্যাদি ওষুধ দীর্ঘদিন সেবনেও ফ্যাটি লিভার হতে পারে। এ রোগের পরিচিতি নতুন হলেও বিশ্বব্যাপী এই ‘ন্যাশ’ এখন মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশেও একইভাবে বিস্তার ঘটছে ন্যাশের।  

ডা. মেহেরুন্নেসা খানমের উপস্থাপনায় সিম্পোজিয়ামে নিজেদের প্রেজেন্টেশন তুলে ধরেন চমেক হেপাটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও লিভার কেয়ার সোসাইটির সভাপতি ডা. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, চমেক অ্যান্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ডা. ফারহানা আক্তার, পুষ্টিবিদ হাসিনা আক্তার লিপি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ইন্টারভেনশনাল হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নিল)।

এসময় ডা. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, ন্যাশ রোগীদের মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ পরবর্তী সময়ে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হতে পারে। আর তাদের মধ্যে কারও কারও লিভার ক্যান্সারও হতে পারে। তবে এটি লিভারের রোগ হলেও বেশীরভাগ রোগী মারা যান হৃদরোগ, স্ট্রোক কিংবা কিডনী জটিলতায়।  

সিম্পোজিয়ামে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিভার্সাল মেডিক্যাল কলেজ রিসার্চ সেন্টারের হেড অব রিসার্চ অধ্যাপক ডা. মো. রিদওয়ানুর রহমান, বিএমএ চট্টগ্রাম সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী। এছাড়া বিশেষজ্ঞ প্যানেলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইপারটেনশন অ্যান্ড হার্ট ফেইলিউর ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার দাশ, চমেক গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এরশাদ উদ্দীন আহমেদ, চমেক নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল হুদা, চমেক হেপাটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. আলোক কুমার রাহা ও সহকারী অধ্যাপক ডা. সালাউদ্দীন শাহেদ চৌধুরী।  

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-পরিচালক ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া, লিভার কেয়ার সোসাইটির কোষাধ্যাক্ষ ও এপিক হেলথ কেয়ার সিওও ডা. মো. এনামুল হক, অপারেশন্স ম্যানেজার ডা. হামিদ হোছাইন আজাদ, এসআরএল ডায়াগনস্টিক চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রবিউল আলম প্রমুখ।