ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ পূর্বাচল উপশহরে অবস্হিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এবার ভিন্নধর্মী এক বিরত্বগাথা সৃষ্টি করেছে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ কর্নার।
মেলার প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করে পূর্ব দিকে এগুতেই চোখে পড়বে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত এই দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়নটি। যেখানে ২০২৪-এর ৩৬ জুলাইয়ের (৫ আগস্ট) আন্দোলন-সংগ্রামের রক্তঝরা ইতিহাস ও শহীদদের বীরত্বগাথা তুলে ধরা হয়েছে।
৫ জানুয়ারী সোমবার বিকালে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। এর আগে ৩ জানুয়ারি বাণিজ্যমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপরই দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন প্যাভিলিয়ন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্যাভিলিয়নটির প্রতিটি দেয়ালে শোভা পাচ্ছে আন্দোলনে শহীদদের স্থিরচিত্র। বিশাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত হচ্ছে সেই উত্তাল সময়ের ঐতিহাসিক ভিডিও চিত্র। এখানে আসা দর্শনার্থীরা মুহূর্তেই হারিয়ে যাচ্ছেন দেশ রক্ষার্থে প্রাণ বিসর্জন দেওয়া তরুণদের সেই আত্মত্যাগের দিনগুলোতে। প্যাভিলিয়নটিতে বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে শহীদ মুগ্ধর পানি বিতরণের সেই অবিস্মরণীয় স্থিরচিত্র। অন্যায়ের বিরুদ্ধে শহীদ আবু সাঈদের বুক পেতে দেওয়ার সাহসী দৃশ্য। এছাড়া স্থান পেয়েছে শহীদ আনাছের মাকে লেখা চিঠি এবং বিপ্লবী শহীদ ওসমান হাদীর ছেলেকে কাঁধে নিয়ে লড়াইয়ের ছবি।
ঢাকার দক্ষিণগাঁও থেকে মেলায় এসেছেন ওয়ালী উল্লাহ তিনি বলেন, এবার মেলায় পলিথিন -প্লাস্টিক সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। থাকতে ৫২-এর ভাষা আন্দোলন ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ বং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদের স্মরণে নির্মিত হয়েছে 'বাংলাদেশ স্কয়ার,। মুক্তযোদ্বা, প্রতিবন্ধী ও জুলাই আন্দোলনে আহতরা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। মেলাী ই-টিকেটিংএর ব্যবস্হা করা হয়েছে। মেলায় প্রবেশ টিকেটের মুল্য নির্ধারন করা হয়েছে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং ১২ বছরের নিচে শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।
নরসিংদী থেকে মেলায় ঘুরতে আসা গৃহিনী নাসরিন আক্তার বলেন, এখানে ৩৬ জুলাইয়ের আন্দোলনের সময়ে শহীদ মুগ্ধর পানি বিতরণ, আবু সাঈদের প্রতিবাদ জানাতে বুক পেতে দেওয়ার দৃশ্য ও বিপ্লবী শহীদ ওসমান হাদীর ছেলেকে কাঁধে নেওয়া স্থির চিত্রটি এই প্যাভিলিয়নটিকে প্রাণবন্ত করেছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও ৩৬ জুলাইয়ে যে সকল শহীদরা বীরত্বগাঁথা কর্মকাণ্ড দিয়ে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছে তাদের সম্পর্কে অনেক কিছুই এখানে আসলে জানা যাবে।
এবারের মেলায় ১১টি বিদেশীসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৭টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্টুরেন্ট, দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দেশীয়বস্র, মেশিনারিজ,গৃহসামগ্রী, ক্রোকারিজ,মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ,ইমিটেশন জুয়েলারি, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য,পাটও পাটজাতপন্য,চামড়া ও চামড়া জাত দ্রব্য, ফার্নিচার,ইলেক্ট্রনিক্স,কসমেটিকস, হস্তশিল্প, খেলনা প্রক্রিয়াজাত।
ব্যাংকিং লেনদেনের জন্য থাকছে ব্যাংকের একাধিক বুথ। মেলায় আসা শিশুদের জন্য থাকছে ২টি শিশু পার্ক। মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান/খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলবে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত, তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন রাত ১০ টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

