ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য একটি খসড়া অধ্যাদেশ করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি সরকার গেজেট করে অধ্যাদেশ দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকা সমন্বয়ে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর প্রতিষ্ঠার জন্য এ অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ করা, দুর্যোগ সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্য-প্রযুক্তি ও পর্যটনশিল্পের বিকাশ এবং উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করতে একটি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। এজন্য এ অধ্যাদেশ করা হয়েছে।
এ অধ্যাদেশের অধীনে নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হবে। এর এলাকা হবে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও আশপাশের কিছু এলাকা। কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় সিটি করপোরেশনের এলাকায় থাকবে। কর্তৃপক্ষের মধ্যে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও পাঁচজন প্রতিনিধি থাকবেন। চেয়ারম্যান এবং চারজন সদস্য কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক কর্মচারী হবেন। চেয়ারম্যানের মেয়াদ হবে তিন বছর, কোনো ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি চেয়ারম্যান বা সার্বক্ষণিক সদস্য নিয়োগ পাবেন না। অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মতো নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেরও দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা দেওয়া হয়েছে খসড়া অধ্যাদেশে। কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জের আওতাভুক্ত এলাকায় আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ভূমি ক্রয় বা লিজ গ্রহণ, ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি-বিলিবন্দোবস্ত ও উন্নয়ন ফি ধার্যের ক্ষমতা পাবে। মহাপরিকল্পনার চিহ্নিত বা উল্লিখিত উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ভূমি ব্যবহার করা যাবে না। এ বিধান লঙ্ঘন করলে এক বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে খসড়া অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। কৃত্রিম জলাধার খনন এবং নিচু ভূমি ভরাট বা প্রাকৃতিক জলাধারের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ খননকার্য স্থগিত বা বন্ধ করার নির্দেশ দিতে পারবে। এ নির্দেশ অমান্য করলে প্রথমবার দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, পরবর্তী সময়ে দুই থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও দুই থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া নদী, খালবিল, পুকুর, ডোবা ও প্রাকৃতিক জলাধারের পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। একইভাবে লঙ্ঘনকারীর জন্য প্রথমবার দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে দুই থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও দুই থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড ধার্য থাকবে। খেলার মাঠ, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ‘খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০’ প্রযোজ্য হবে বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়। অনুমোদিত নকশার ব্যত্যয় করে ভবন নির্মাণ করা যাবে না। অমান্য করলে ভবন মালিককে ভবন অপসারণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে অপসারণ না করলে খরচের দ্বিগুণ টাকা তার কাছ থেকে নেওয়া হবে। চেয়ারম্যান ও সদস্য বা কোনো কর্মচারী পদে বহাল থাকা অবস্থায় কর্তৃপক্ষের ব্যবসা-বাণিজ্য বা কোনো লেনদেন করতে পারবে না। এটা লঙ্ঘন করলে দুই বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, রাজউক অনেক ভালো কাজ করে। তবে নারায়ণগঞ্জকে পরিকল্পিত উন্নয়ন করতে রাজউকের সেই জনবল নেই। তাই এই জনপদের শৃঙ্খলা ফেরাতে, নারায়ণগঞ্জকে একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনতে ‘নারায়ণগঞ্জ কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি বোর্ড গঠনের প্রয়োজন রয়েছে। যেখান থেকে নারায়ণগঞ্জ পরিচালিত হবে। তিনি আরও বলেন, এই এলাকায় যত্রতত্র উন্নয়ন হচ্ছে। হাউজিং ব্যবসায়ী এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন লোকেরা যত্রতত্র উন্নয়ন করছেন। এসব উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন বলে আমরা মনে করছি। আর কর্তৃপক্ষ হলে এ এলাকায় পরিকল্পিত নগরায়ণ হবে।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি আরিফুল ইসলাম বলেন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত হয় ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে। কিন্তু যে উদ্দেশ্যে গঠিত হয় তা আর থাকে না। কারিগরি বিষয় আমলারা পরিচালনা করেন। কিন্তু সেখানে হওয়া উচিত সেক্টর ভিত্তিক লোকের। সে কারণে কেউই লাভবান হয় না। পরিকল্পিত উন্নয়ন হয় না। তবে কার্যকর করা গেলে পরিকল্পিত শহর গড়া সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

