ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রতিষ্ঠার পর টানা তিন মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন আওয়ামী লীগের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। প্রায় দেড় দশক দায়িত্বে থাকলেও বন্দর এলাকার দীর্ঘদিনের বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসন হয়নি। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো পানির লাইন না থাকায় বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বাসিন্দাদের।
তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। ইতোমধ্যে ২৭ নং ওয়ার্ডে দুটি পানির পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও পাঁচটি গভীর নলকূপ ও পাম্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, বন্দর এলাকার ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে কোনো পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ছিল না। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যক্তিগত টিউবওয়েল, বেসরকারি পানির উৎস কিংবা দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করে দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে বাধ্য হতেন। বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুম—উভয় সময়েই এই দুই ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান পানি সংকটকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দুটি পানির পাম্প চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় বাসিন্দারা বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পেতে শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ড দীর্ঘদিন ধরে সিটি করপোরেশনের পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। আমরা সেই বৈষম্য দূর করার কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে দুটি পানির পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আরও পাঁচটি পাম্প বসানো হবে, যাতে এসব এলাকার প্রতিটি মানুষ নিরাপদ পানির সুবিধা পায়।
তিনি আরও জানান, শুধু বন্দর নয়, পুরো নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকাকে আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থার আওতায় আনতে একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ইতোমধ্যে এক হাজার ৬৯৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শহর, বন্দর ও সিদ্ধিরগঞ্জের প্রতিটি ঘরে নতুনভাবে পানির সংযোগ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে নাগরিকরা নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ পাবেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, ঘোষিত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়িত হলে বন্দর এলাকার বহু বছরের বিশুদ্ধ পানির সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে।

