বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

|

শ্রাবণ ৭ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

জুলাই স্মরণ: নারায়ণগঞ্জের রাজপথে দিপু ভূঁইয়ার সক্রিয়তা ছিল আন্দোলনের বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৭:৪৭, ২৩ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ১৭:৪৭, ২৩ জুলাই ২০২৬

জুলাই স্মরণ: নারায়ণগঞ্জের রাজপথে দিপু ভূঁইয়ার সক্রিয়তা ছিল আন্দোলনের বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ পোস্ট ডটকম: ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে নারায়ণগঞ্জের রাজপথ কাঁপানো আন্দোলনকে বেগবান করতে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

তৎকালীন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার পাশাপাশি ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়িয়ে সরাসরি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি। আন্দোলন সফল করতে তার এই বলিষ্ঠ উপস্থিতি ও অবদানকে আন্দোলনের একটি বড় 'টার্নিং পয়েন্ট' হিসেবে দেখছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তিকে সামনে রেখে তৎকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর সাহসী ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করছেন। তাদের ভাষ্য, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে রূপগঞ্জ তথা পুরো নারায়ণগঞ্জ জেলায় যে কয়েকজন নেতা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সম্মুখভাগে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের মধ্যে দিপু ভূঁইয়া অন্যতম।

গণঅভ্যুত্থানের তীব্রতার সময়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় ছাত্র-জনতার চলমান আন্দোলনে সশরীরে এসে সংহতি প্রকাশ করেছিলেন দিপু ভূঁইয়া। সে সময় তিনি আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনতার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, প্রশাসনের চরম দমন-পীড়ন ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে দিপু ভূঁইয়ার মতো একজন শীর্ষ নেতার রাজপথে নেমে আসাটা সে সময় আন্দোলনকারীদের মনে নতুন শক্তি জুগিয়েছিল এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল।

আন্দোলনের কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ছিল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। এই মহাসড়ক অবরুদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণে রাখার আন্দোলন সফল করতে দিপু ভূঁইয়ার ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো। আন্দোলন সফল করার লক্ষ্যে তিনি দিন-রাত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করেছেন, কর্মসূচি বাস্তবায়নে নিজে মাঠে থেকেছেন এবং আন্দোলনকে সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নিতে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

এছাড়াও রূপগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনার পর তিনি সার্বক্ষণিক কর্মীদের খোঁজখবর নিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং সাধারণ মানুষের মনোবল ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সে সময়ে রাজপথে তার সক্রিয় অংশগ্রহণের বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা সাধারণ আন্দোলনকারীদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল।

বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, আন্দোলনের একটি চরম সংকটাপন্ন মুহূর্তে দিপু ভূঁইয়ার রাজপথে নেমে আসাটা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি কেবল ঘরে বসে বা বিবৃতি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেননি; বরং নিজে সশরীরে মাঠে থেকে কর্মসূচি সফল করেছেন। তার এই সক্রিয়তার ফলেই নারায়ণগঞ্জে আন্দোলন আরও বেগবান ও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছিল।

নেতাকর্মীদের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসে নারায়ণগঞ্জের অধ্যায়ে মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপুর সাহসী ও অগ্রণী ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।