ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ‘চোর অপবাদে’ অমানবিক নির্যাতনের ছয় দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংমিস্ত্রি নয়ন হাওলাদারের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার দিনগত রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এদিন দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম।
তিনি জানান, নুরুল ইসলাম তার বাড়িতে রঙমিস্ত্রি নয়ন হাওলাদারকে দুই দিন আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করেন। তার স্ত্রীকে যখন বিষয়টি জানানো হয়, তখন থানায় জানালেও লোকটিকে কিছুটা সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে পারতাম। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আমেনা আক্তার শিমু বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
নিহতের স্ত্রী আমেনা আক্তার শিমু জানান, তারা স্বামী-স্ত্রী সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল তাঁতখানা এলাকার শাহজালালের খালার বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তার স্বামী নয়ন হাওলাদার ফতুল্লার দক্ষিণ শিহাচর এলাকার নুরুল ইসলামের বাড়িতে প্রায় এক মাস ধরে রঙের কাজ করছিলেন।
তিনি জানান, প্রতিদিনের মতো গত ১৪ জুলাই সকালে নয়ন নুরুল ইসলামের বাড়িতে কাজে যান। ওই দিন রাতে নুরুল ইসলাম ফোন করে জানান, তার স্বামী নয়ন ঘর থেকে ৫০ হাজার টাকা চুরি করেছেন। টাকা ফেরত দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
শিমু বলেন, পরদিন কানের স্বর্ণের দুল বন্ধক রেখে ৩০ হাজার টাকা এনে দেন তিনি। এতে নুরুল ইসলামের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা ক্ষিপ্ত হয়ে নয়নের বুকের ওপর বসে কাঠের টুকরো দিয়ে আঘাত করেন। বাড়ির আরেক সদস্য সিরাজুস সালেকিন বিদ্যুতের তার দিয়ে নয়নের শরীরে শক দেন এবং তার বাম হাতের কবজি ও আঙুল মুচড়িয়ে ভেঙে দেন। এতে নয়ন নিথর হয়ে পড়েন।
তিনি আরও বলেন, ওই সময় নয়নকে হত্যা না করার জন্য তিনি সবার হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করেন। পরে নুরুল ইসলাম বাকি ২০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেন। এরপর বাসায় ফিরে অনেক চেষ্টা করেও টাকা সংগ্রহ করতে না পেরে ১৬ জুলাই দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ গিয়ে নুরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় নয়নকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
শিমু বলেন, ধারদেনা করে চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা খরচ করেও আমার স্বামীকে বাঁচাতে পারলাম না। যারা মিথ্যা চুরির অপবাদ দিয়ে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, আমি তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।

