ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ভূমিকম্পের পর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভবনগুলোর মধ্যে হাউজিং এলাকার ২ নম্বর রোডে অবস্থিত একটি ভবন এখনও অপসারণ করা হয়নি।
একই সারিতে থাকা একটি ভবন ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হলেও বাড়ির মালিক সিদ্দিকের ভবনটি এখনো দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাশাপাশি থাকা দুটি ভবনের মধ্যে একটি ভবন ভেঙে ফেলা হয়েছে। তবে অন্য ভবনটি আগের অবস্থাতেই রয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভবনটি নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
হাউজিং ২ নম্বর রোডের এক পাশের বাড়ির মালিক বলেন, “যে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি ভাঙা হচ্ছে, সেটির বেজ বা পাইলিং তোলার সময় পাশের ভবনগুলোও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। আমরা খুবই আতঙ্কে আছি। রাজউক ও প্রশাসনের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ জানাই।”
প্রসঙ্গত, ভূমিকম্পের পর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরিদর্শন শেষে হেলে পড়া তিনটি ভবনসহ মোট ছয়টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে রাজউকের পরিদর্শক রানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে ভবনটি এখনও কেন অপসারণ করা হয়নি বা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রাজউকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ভবনের মালিক সিদ্দিক দাবি করেন, “আমার ভবনে কোনো সমস্যা নেই। রাজউকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তারা চূড়ান্ত ছাড়পত্র দিলে আমরা ভবনে উঠব। পাশের যে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়েছে, সেটিই আমার ভবনের ওপর হেলে পড়েছিল। এখন আমার ভবনটি নিরাপদ এবং এতে কোনো ঝুঁকি নেই।”
তবে রাজউকের আনুষ্ঠানিক ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত ভবনটির প্রকৃত নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। স্থানীয়রা ভবনটি পুনরায় প্রকৌশলীদের মাধ্যমে পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

