বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

|

ভাদ্র ৪ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নারায়ণগঞ্জে আমন মৌসুমে সারের বাড়তি দামের অভিযোগ কৃষকদের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১২:২৩, ২০ আগস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে আমন মৌসুমে সারের বাড়তি দামের অভিযোগ কৃষকদের

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জে চলতি আমন মৌসুমে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। জেলার বিভিন্ন বাজারে ৫০ কেজির একেকটি বস্তায় সরকার নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকরা। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে আমন চাষিদের ওপর।

কৃষক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া সার ১ হাজার ৩৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা এবং এমওপি ১ হাজার টাকা দরে বিক্রির কথা। কিন্তু খুচরা বাজারে এসব সার যথাক্রমে ১ হাজার ৬০০, ১ হাজার ৭০০, ১ হাজার ৪০০ এবং ১ হাজার ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হিসাব অনুযায়ী, ইউরিয়ায় বস্তাপ্রতি ২৫০ টাকা, টিএসপিতে ৩৫০ টাকা, ডিএপিতে ৩৫০ টাকা এবং এমওপিতে ২৫০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিপ্রতি কৃষকদের ৫ থেকে ৭ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, আমন মৌসুমে জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে চারা রোপণ ও পরবর্তী পরিচর্যায় সারের প্রয়োজনীয়তা বেশি। এ সময় নির্ধারিত দামের বাইরে বাড়তি টাকা দিয়ে সার কিনতে হলে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে বর্গাচাষি ও ছোট কৃষকদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়ছে।

আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল ছামাদ বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়া গেলে কৃষকদের জন্য সুবিধা হতো। কিন্তু দোকানে গিয়ে অনেক সময় বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। আমন মৌসুমে সারের প্রয়োজন বেশি থাকায় বাধ্য হয়ে বাড়তি দামেই কিনতে হচ্ছে।

বন্দর উপজেলার বর্গাচাষি মিতুল বলেন, সার সংকট না থাকলেও দাম নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিয়ে সার কিনলে ধান উৎপাদনের খরচ বেড়ে যায়। কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে হলে বাজারে সরকারি দাম কার্যকর করা জরুরি।

তবে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নারায়ণগঞ্জে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। চাহিদা অনুযায়ী জেলার বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে নিয়মিত সার সরবরাহ করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আঃ জাঃ মুঃ আহসান শহীদ সরকার বলেন, বর্তমানে আমন ধানের মৌসুম চলছে। ইতোমধ্যে জেলার প্রায় ৩৫ শতাংশ জমিতে আমন ধানের চারা রোপণ হয়েছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই শতভাগ জমিতে রোপণ সম্পন্ন হবে। নারায়ণগঞ্জে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের কৃষকদের সার প্রাপ্তিতে বড় ধরনের কোনো সংকট বা ধকল পোহাতে হচ্ছে না। জেলার ৯৫টি সার ডিলার পয়েন্ট রয়েছে। এর প্রায় সবগুলোতেই চার ধরনের সার সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত ও সরবরাহ রয়েছে বলেও জানান তিনি।

কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার কথা জানানো হলেও নির্ধারিত মূল্যের বাইরে সার বিক্রির অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। তাদের মতে, যখন জেলায় পর্যাপ্ত সার সরবরাহ রয়েছে, তখন সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির সুযোগ থাকার কথা নয়।

কৃষকদের দাবি, শুধু ডিলার পর্যায়ে সার সরবরাহ নিশ্চিত করলেই হবে না, খুচরা বাজারেও নিয়মিত তদারকি করতে হবে। কোনো দোকানি নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এতে একদিকে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার পাবেন, অন্যদিকে আমন ধানের উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।