ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের বন্দরের ঐতিহাসিক লাঙ্গলবন্দে আদি ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে দুই দিনব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ‘মহাষ্টমী স্নানোৎসব’ শেষ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) দুপুরে এই স্নানোৎসব শেষ হয়।
এসময় পাপমুক্তির আশায় দেশ-বিদেশের লাখো পুণ্যার্থীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে ব্রহ্মপুত্র তীর। আয়োজক কমিটি জানায়, এবার স্নান শুরু হয় বুধবার বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে এবং শেষ হয় বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে।
উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়। বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার জানান, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ২৪টি স্নানঘাট সংস্কার, নদের কচুরিপানা অপসারণ ও বিশুদ্ধ পানির জন্য অর্ধশত নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নারীদের কাপড় পরিবর্তনের জন্য বিশেষ কক্ষ ও ২০০টি অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণসহ ৬২টি সেবা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
প্রায় ১০ বছর আগে বেইলি ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার গুজবে পদদলিত হয়ে ১০ তীর্থযাত্রীর মৃত্যু হয়। এ অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে এবার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোক্তার আশরাফউদ্দিন জানান, পুলিশ, আনসার ও র্যাবের সহস্রাধিক সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পুরো তিন কিলোমিটার এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। নদীতে নৌ-পুলিশ ও সড়কে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
লাঙ্গলবন্দ স্নানোৎসব উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, এবার অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংখ্যক পুণ্যার্থীর এবার উপস্থিত হয়েছেন। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা থেকে কয়েক হাজার বিদেশী পুণ্যার্থী ব্রহ্মপুত্রের এই পবিত্র সলিলে অবগাহন করতে লাঙ্গলবন্দে এসেছেন।

