ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে যৌতুকের টাকা না পেয়ে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। রোববার (২২ মার্চ) সকালে উপজেলার বৈদ্যের বাজারের সাত ভাইয়াপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত গৃহবধূর নাম অনিকা খাতুন ফারহানা (২৪)। তিনি কুমিল্লার মেঘনা থানার নলছটি গ্রামের কালাচাঁনের মেয়ে।
এ ঘটনায় রোববার বিকেলে নিহত ফারহানার বাবা কালাচান মেয়ে ফারহানার স্বামী সাগরকে প্রধান আসামি করে এবং তিনজনের নাম উল্লেখ করে সোনারগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তবে ঘটনার পর থেকেই নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছে।
থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, কুমিল্লার মেঘনা থানার নলছটি গ্রামের কালাচাঁনের মেয়ে অনিকা খাতুন ফারহানার সাথে নয় বছর আগে সোনারগাঁওয়ের বৈদ্যের বাজার ইউনিয়নের সাত ভাইয়াপাড়া গ্রামের রাজা মিয়ার ছেলে সাগরের বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়েসন্তান রয়েছে।
বিয়ের পর থেকে সাগর বিদেশ যাওয়ার জন্য চার লাখ টাকার দাবি করে। এ নিয়ে প্রায় সাগর তার স্ত্রী ফারহানাকে মারধর করত। পরে দাবিকৃত যৌতুকের চার লাখ টাকা দেয়া হয়। কয়েক মাস বিদেশে কাজ করে সাগর দেশে ফিরে আসে। দেশে ফিরেই তিনি আবারো শ্বশুরবাড়ি থেকে আরো দুই লাখ টাকা যৌতুক আনতে বলে স্ত্রী ফারহানাকে চাপ দেন। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া হচ্ছে। ঈদের দিন রাতে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারো ঝগড়া হয়।
রোববার সকালে নিহতের ননদ তানজিনা তার ভাবীর মা-বাবাকে ফোন করে জানান, ফারহানা অসুস্থ। পরে ফারহানার বাবা-মা সাত ভাইয়াপাড়া এলাকায় বাসায় এসে ফারহানাকে ঘরের মেঝেতে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখতে পান।
পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মহিববুল্লাহ নিজে উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন।
সোনারগাঁও থানার ওসি মহিববুল্লাহ বলেন, ‘লাশ উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে।’

