সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

|

শ্রাবণ ৪ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

কখন যেন ভেঙে পড়ে সেতু, আতঙ্কে কায়েতপাড়াবাসী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ২০:৪৭, ১৯ জুলাই ২০২৬

কখন যেন ভেঙে পড়ে সেতু, আতঙ্কে কায়েতপাড়াবাসী

চনপাড়া-ডেমরা সড়কের সেতু

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া-ডেমরা সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। চনপাড়া, কায়েতপাড়া ও আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম এই সেতু। এখানে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ থাকলেও নানা জটিলতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি।

এদিকে দিন যত যাচ্ছে ভারী যানবাহনের চাপ ও পিলারের ক্ষয়ের কারণে সেতুটি আরও নাজুক হয়ে পড়ছে।

এ নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় সেতুটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
চনপাড়া-ডেমরা সড়কের এই সেতু ব্যবহার করে প্রতিদিন কর্মজীবী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনদুর্ভোগ বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

তাদের ভাষ্য, সেতুর নিচের অংশে বিভিন্ন স্থানে ক্ষয় দেখা দিয়েছে। পিলারের কংক্রিট খসে রড বের হয়ে এসেছে। প্রায়ই বালুভর্তি ভারী বাল্কহেড ও নৌযান সেতুর নিচ দিয়ে চলাচলের সময় পিলারের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। বর্ষা মৌসুমে এমন ঘটনা আরও বেড়ে যায়। যখন সেতুতে নৌযানের ধাক্কা লাগে তখন বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। নিরাপত্তার স্বার্থে সেতুর দুই পাশে ব্যারিকেড স্থাপন করা হলেও একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি তা সরিয়ে যানবাহন চলাচল অব্যাহত রেখেছে। এতে সেতুর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়ে ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বর্তমানে সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, সিএনজি, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। মাঝেমধ্যে পাঁচ টনের ট্রাকও পারাপার হতে দেখা যায়, যা সেতুর ধারণক্ষমতার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

চনপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এ হালিম বলেন, চনপাড়া-ডেমরা সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যেকোনো সময় এটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এই সেতু দিয়ে চলাচল করে। সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয় বাওয়ানি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সেতু পেরিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরীফ বলেন, আমরা প্রতিদিন সেতু পার হয়ে স্কুলে যাই। সবসময় ভয় থাকে কখন সেতুটি ভেঙে পড়ে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা, সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বিভিন্ন সময় মানববন্ধন ও র‍্যালির মাধ্যমে সেতুর সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

চনপাড়া মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। আমরা একাধিকবার মানববন্ধন ও র‍্যালি করেছি। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত সংস্কার বা নতুন সেতু নির্মাণ না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখতে আমরা একাধিকবার ব্যারিকেড দিয়েছি। কিন্তু তা বারবার ভেঙে ফেলা হয়েছে। দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু জানান, ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে। আশা কছি দ্রুতই এ ব্যাপারে ভালো সংবাদ পাবে কায়েতপাড়াবাসী।

১৯৯৬ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত আব্দুল মতিন চৌধুরীর উদ্যোগে সেতুটি নির্মিত হয়। তখন যানবাহনের চাপ কম থাকলেও বর্তমানে জনসংখ্যা ও যানবাহন বৃদ্ধি পাওয়ায় সেতুর ওপর চাপ বেড়েছে।

জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেন, দুই-তিন বছর আগে নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিআইডব্লিউটিএর নৌপথের উল্লম্ব ক্লিয়ারেন্সসহ কিছু কারিগরি জটিলতা এবং জমি অধিগ্রহণ সমস্যার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে পরে নতুন করে সেতু নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু হবে।