ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য একটি বৌদ্ধ বিহার ও শ্মশান নির্মাণে প্রয়োজনীয় জায়গা বরাদ্দের দাবি জানিয়ে প্রশাসকের কাছে খোলা আবেদন জানিয়েছেন জেলার বৌদ্ধ নাগরিকরা। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
শনিবার (১৮ জুলাই) এই আবেদন জানানো হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, শিল্প ও বাণিজ্যনগরী হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জে প্রায় ৪০ লাখ মানুষের বসবাস। জেলার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বসবাস করলেও শহরে তাদের জন্য কোনো বৌদ্ধ বিহার, প্যাগোডা কিংবা উপাসনালয় নেই। ফলে ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান পালনের জন্য বিভিন্ন ক্লাব বা ভাড়া করা স্থানের ওপর নির্ভর করতে হয়।
তারা জানান, নারায়ণগঞ্জ শহরে বড়ুয়া, চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং শ্রীলঙ্কান নাগরিক মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বসবাস করেন। কিন্তু তাদের ধর্মীয় চর্চার জন্য কোনো স্থায়ী অবকাঠামো নেই।
খোলা আবেদনে আরও বলা হয়, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় সংকট হলো একটি শ্মশানের অভাব। কোনো বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর মৃত্যু হলে মরদেহ দাহ করার জন্য অনেক ক্ষেত্রে চট্টগ্রামসহ দূরবর্তী এলাকায় নিয়ে যেতে হয়। এতে পরিবারকে চরম ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখে পড়তে হয়। অতীতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শ্মশানে দাহ করার ঘটনাও ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, অতীতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জন্য কোনো বিহার বা শ্মশান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মাসদাইর এলাকায় মডেল মসজিদ, মডেল মন্দির ও মডেল গির্জা নির্মিত হয়েছে। আবেদনকারীদের মতে, সেখানে একটি বৌদ্ধ বিহার যুক্ত হলে ধর্মীয় সম্প্রীতির আরও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।
তারা আরও বলেন, বৌদ্ধ ধর্মের মূল শিক্ষা শান্তি, মৈত্রী ও মানবতা। একটি বৌদ্ধ বিহার ও শ্মশান প্রতিষ্ঠিত হলে তা শুধু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় চর্চার ক্ষেত্রই হবে না, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করবে।
খোলা আবেদনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের প্রতি শহরের সুবিধাজনক স্থানে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনা ও অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য একটি বৌদ্ধ বিহার ও শ্মশান নির্মাণে প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দের আহ্বান জানানো হয়েছে। আবেদনকারীরা বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৌদ্ধ নাগরিকরা দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।

