ফাইল ছবি
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কটির অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে।
মহাসড়কের কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার অংশে বিভিন্ন স্থানে সড়কের কার্পেটিং উঠে গিয়ে কোথাও ছোট, কোথাও বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। ফলে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। দূরপাল্লার যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক, ব্যক্তিগত গাড়িচালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ভোগে পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, তিন কারণে মহাসড়কে খানাখন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। টানা বৃষ্টি, ওভারলোডে গাড়ি চলাচল ও অতিরিক্ত গাড়ির প্রবাহ। এর সঙ্গে রয়েছে যথাযথ নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকা। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো টেকসইভাবে সংস্কার করা হবে।
সরেজমিন দেখা গেছে, মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত পুরো ১৪ কিলোমিটার পথে অসংখ্য স্থানে সড়কের পিচ উঠে গেছে। বিশেষ করে কাঁচপুর সেতুর ঢালু এলাকা, চেঙ্গাইন, মদনপুর, কেওঢালা, লাঙ্গলবন্দ, সোনাখালী, দড়িকান্দি, টিপুরদী, হাবিবপুর, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা, পিরোজপুর চেঙ্গাকান্দি মৃধাকান্দি, নয়াগাঁও, আষাঢ়িয়ারচর এবং মেঘনা টোল প্লাজা এলাকায় ছোট বড় অনেক গর্ত তৈরি হয়েছে। অনেক স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় গর্তের গভীরতা বোঝা যাচ্ছে না, যা দ্রুতগতির যানবাহনের চালকদের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
অনেক চালক গর্ত এড়াতে হঠাৎ লেন পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে পেছনে থাকা যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় ভারী যানবাহনের চাকা গর্তে পড়ে আটকে যাচ্ছে। মোটরসাইকেলের চালকরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। কোথাও কোথাও বাস ও ট্রাক ধীরগতিতে চলায় দীর্ঘ যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। আগে যেসব স্থানে ছোট গর্ত ছিল, সেগুলো এখন বড় আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিন যানবাহনের চাপে গর্তগুলো আরও বিস্তৃত হচ্ছে।
কুমিল্লা থেকে ঢাকাগামী তিশা পরিবহনের যাত্রী সাইদুল মিয়া বলেন, দিনের বেলায় কিছুটা সতর্ক হয়ে চলা যায়। কিন্তু রাতে মহাসড়কে চলাচল সত্যিই ভয়ের। গাড়ির চাকা হঠাৎ গর্তে পড়লে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ যাত্রায় এটি বড় ভোগান্তি।
প্রাইভেটকারের চালক মো. সাজু আলম বলেন, বৃষ্টির কারণে এখন গর্তগুলো অনেক গভীর হয়েছে। গাড়ির চাকা গর্তে পড়লে নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় গাড়ির সাসপেনশন ও চাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের এই অবস্থা দ্রুত ঠিক করা প্রয়োজন।
পরিবহন চালক আশিক আহমেদ বলেন, এই সড়কে শুধু দুর্ঘটনার ভয় নয়, গভীর রাতে ছিনতাইয়ের আশঙ্কাও থাকে। মহাসড়কের কিছু অংশে দীর্ঘদিন ছিনতাই হচ্ছে। খানাখন্দের কারণে গাড়ি ধীরে চালালে ছিনতাইয়েরও ভয় বেড়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, টানা বর্ষণ ও পানি নিষ্কাশনের সমস্যা– এই তিন কারণে সড়কের ক্ষতি বেশি হচ্ছে। কোথাও কোথাও সড়কের পাশের ঘাস ও ঝোপঝাড়ও পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছে, ফলে বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় সড়কের ওপর জমে থাকছে। এর সঙ্গে রয়েছে অতিরিক্ত ওজনবাহী গাড়ি চলাচল।
মহাসড়কের পাশে অনেক স্থানে ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যকর না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারে না। পানি দীর্ঘ সময় সড়কের ওপর জমে থাকায় পিচ নরম হয়ে উঠে যাচ্ছে, এরপর ভারী যানবাহনের চাপে দ্রুত গর্ত তৈরি হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জানান, বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি হলে মহাসড়কের ওপর দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকে। পানি কার্পেটিংয়ের ফাঁক দিয়ে নিচের স্তরে প্রবেশ করলে রাস্তার ভিত্তি (বেজ ও সাব-বেজ) দুর্বল হয়ে যায়। এরপর ভারী ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের চাপের কারণে কার্পেটিং উঠে গিয়ে দ্রুত খানাখন্দ তৈরি হয়। যেসব স্থানে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা রয়েছে, সেখানে এ ধরনের ক্ষতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির সময় স্থায়ীভাবে কার্পেটিংয়ের কাজ করা কঠিন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে প্যাচিং (মেরামত) করা হচ্ছে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়। আবহাওয়া অনুকূলে এলে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো টেকসইভাবে সংস্কার করা হবে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে মহাসড়কের পিরোজপুর এলাকায় আগমন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, কোনো প্রকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই সড়ক ও জনপদ বিভাগের কর্মীরা অনেকটা তড়িঘড়ি করে মহাসড়কের খানাখন্দগুলো সংস্কার করছেন। ব্যস্ত সময়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে এ সংস্কার কাজ করায় সড়কে যানজট লেগে যায়।
সকাল ১১টায় কাঁচপুর থেকে শুরু হয়ে আষাঢ়িয়ার চর এলাকা পর্যন্ত সংস্কার কাজ হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ কাজ চলে।

