এশিয়ান হাইওয়ে
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও ৩'শ ফুট সড়কে দিন দিন বেড়েই চলেছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, অটো ও সিএনজিচালিত যানবাহনের দৌরাত্ম্য। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ অটোরিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড। ফলে প্রতিদিন সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে পণ্যবাহী ট্রাকসহ দূরপাল্লার যানবাহন। একই সঙ্গে উল্টো পথে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করায় বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। ঘটছে হতাহতের ঘটনা। এসব অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তবে, উপজেলা প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশ এ ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
জানা গেছে, রূপগঞ্জ একটি শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা । দূর দূরান্ত থেকে আসা লাখো শ্রমিক এখানে কর্মরত রয়েছে। আর এই রূপগঞ্জের ওপর দিয়ে বয়ে গেছে এশিয়ান হাইওয়ে বাইপাস, ঢাকা সিলেট মহাসড়ক ও ৩'শ ফুট সড়ক। এছাড়া প্রতিটি শিল্প প্রতিষ্ঠান মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। বিশেষ করে মহাসড়কের ভুলতা, গোলাকান্দাইল, বরপা, রূপসী, তারাবো, বরাবো, যাত্রামুড়া, কুষাবো, কাঞ্চন, কালাদিসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বসেছে অবৈধ ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও সিএনজি স্ট্যান্ড। যার ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে প্রত্যেক দিনই। কোন প্রকার নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে সড়কে চলছে এসব অবৈধ গাড়ি। তারা মানছে না ট্রাফিক আইন, মানছে না ট্রাফিক সিগন্যাল। কোন প্রকার কাগজপত্র না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে মামলাও হচ্ছে না। দুর্গামি যান চলাচলের একমাত্র মাধ্যমএই মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অবৈধভাবে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে। এতে যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস সময় ও সন্ধ্যার পর যানজট চরম আকার ধারণ করে। অনেক পণ্যবাহী ট্রাককে একই স্থানে তিন থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে থাকতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে পরিবহন ব্যয়। অবৈধ অটো ও সিএনজি চালক উল্টো পথে গাড়ি চালিয়ে দ্রুত যাত্রী পরিবহনের চেষ্টা করেন। তাদের এই বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রতিদিনই ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে আহত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য যানবাহনের চালকরা।
পথচারী ও চালকরা জানান, অবৈধ ব্যাটারী চালিত এই অটোরিকশা ও সিএনজি মহাসড়কে চলাচলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সৃষ্টি করছেন। যানবাহনগুলো মহাসড়ক দিয়ে যায় ভালোভাবে যেতে পারে না। সারাক্ষণ জ্যাম লেগেই থাকে। অটোরিকশা সিএনজি হাইওয়ের রোডে এত পরিমান বেরেছে অবস্থা খারাপ করে ফেলেছে। মানুষের যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর। যেখানে আধা ঘন্টা দশ মিনিটের রাস্তা সেখানে দুই ঘন্টায়ও থামে না।মানুষের ভোগান্তি চরম লেভেলের।বড় বড় গাড়ি রাস্তার মধ্যে দাঁড় করিয়ে নিচ্ছে যাত্রী। বেপরোয়া অটো চলাচল কারণে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে বাইকার প্রাইভেট কার চালকরা।
প্রাইভেটকার চালক মোতালেব মিয়া বলেন, ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা ও সিএনজির কোন প্রকার বৈধ কাগজপত্র নেই। তারপরও আমাদের তোয়াক্কা না করে তারা তাদের নিজের মতো আইন ভঙ্গ করে চালাচ্ছে। এতে করে সড়কে আমাদের গাড়ি চালাতে সমস্যা হচ্ছে।
ভৈরবগামী বাস চালক হেকমতুল্লাহ বলেন, অবৈধ অটোরিকশা ও সিএনজিসহ ফিটনেসবিহীন গাড়ির ব্যাপারে জোরালো পদক্ষেপ না নিলে দিন দিন মহাসড়কে দুর্ঘটনা বেড়েই চলবে। তাই এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই।
ট্রাক চালক আমির আলী বলেন, অটোরিকশা ও সিএনজি গুলোকে কিছু বলা যায় না। বললেই মারতে তেরে আসে। গাড়ি চালানোর আইন তারা কিছুই বুঝে না। ট্রাফিক বা হাইওয়ে পুলিশকে বললেও তারা পদক্ষেপ নেন না।
ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ওসি জসীমউদ্দীন জানান, আমাদের অভিযান সব সময় চলমান রয়েছে। যাদেরকে আমরা পাই তাদেরকে আইনের আওতায় আনতেছি। আমাদের এখানে কোন অবৈধ অটো স্ট্যান্ড নেই। যদি অবৈধভাবে কেউ স্ট্যান্ড দিয়ে বসে আমরা তার সরিয়ে দেই।
রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জয় জানান,আমাদের ট্রাফিক পুলিশ এবং হাইওয়ে পুলিশ যারা রয়েছে তারাও এটার দায়িত্ব পালন করছে।
তারা যেন মহাসড়কে উঠতে না পারে তার জন্য প্রতিটা জায়গায় চেকপয়েন্ট বসিয়ে আমরা তাদেরকে অনুৎসাহিত করি তারপরেও একজন দুইজন উঠে যাচ্ছে। অটো ও সিএনজি চালকদের জেলে দিতেও মানবিক বিবেচনা করা লাগে। দুটোর কম্বিনেশন করেই আমরা কাজ করছি।
মহাসড়কে যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হলে মানুষের ভোগান্তি কমবে বলে জানান সচেতন মহল।

