মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

|

শ্রাবণ ২৬ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজনই প্রাণ হারালেন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৪:৫৬, ১১ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৪:৫৭, ১১ আগস্ট ২০২৬

গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজনই প্রাণ হারালেন

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাসলাইন লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে এবার মারা গেলেন পরিবারের কর্তা মাইদুল (২৪)। এর আগে তার স্ত্রী বিউটি (২৪) ও আট বছরের ছেলে মারুফের মৃত্যু হয়। ফলে মর্মান্তিক ওই ঘটনায় পরিবারটির আর কোনো সদস্যই বেঁচে রইলেন না।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইদুলের মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের আবাসিক সার্জন সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আগুনে মাইদুলের শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। ঘটনার পর থেকেই তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। দীর্ঘ কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এর আগে সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে একই হাসপাতালে মারা যান মাইদুলের স্ত্রী বিউটি। তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তারও অবস্থা শুরু থেকেই সংকটাপন্ন ছিল।

এর একদিন আগে শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় তাদের একমাত্র সন্তান আট বছরের মারুফ। আগুনে শিশুটির শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাইদুল পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নাটোরে। প্রায় এক বছর ধরে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দর কুড়িপাড়া চাপাতলী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন তারা।

গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ওই বাসায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে মাইদুল, বিউটি ও মারুফ দগ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে ভর্তি করেন।

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানিয়েছিলেন, টিনশেড ঘরের পাশের রান্নাঘরে তিতাসের গ্যাস লাইনে লিকেজ ছিল। দীর্ঘ সময় ধরে ওই লিকেজ দিয়ে বের হওয়া গ্যাস ঘরের ভেতরে জমে যায়। পরে কোনোভাবে আগুনের সংস্পর্শে এসে জমে থাকা গ্যাসে বিস্ফোরণ ঘটে এবং দ্রুত পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।

পরিবারের স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস লাইনে লিকেজ ছিল। মাইদুলের শাশুড়ির ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে মাইদুল লাইটার দিয়ে সিগারেট ধরানোর চেষ্টা করলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর আগুন মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে।

বিস্ফোরণে ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে যায়। তবে আগুনের ভয়াবহতায় সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে পরিবারটির। কয়েক দিনের ব্যবধানে বাবা, মা ও একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।