প্রতারক চক্রের মূলহোতা সাহাঙ্গীর আলম ওরফে জাবেদ গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রতারণার মামলায় আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা সাহাঙ্গীর আলম ওরফে জাবেদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলার তদন্তভার গ্রহণের মাত্র ১১ দিনের মধ্যে রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রোববার (২৩ আগষ্ট) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পিবিআই।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি সাহাঙ্গীর আলম ওরফে জাবেদ (৪২) কুষ্টিয়া সদর থানার শালদাহ এলাকার মহর আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে মামলা রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফতুল্লার তুষারধারা এলাকার বাসিন্দা ও ঠিকাদারি ব্যবসায়ী মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে ২০২২ সালে সাহাঙ্গীর আলম ওরফে জাবেদের পরিচয় হয়। নিজেকে ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে জাবেদ তাকে বিভিন্ন সরকারি ও বড় প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে ‘ওরিয়ান কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি অফিস ভাড়া নিয়ে সেখানে সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা অবস্থান করতেন। ওই চক্রে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ছয়জন প্রকৌশলীসহ প্রায় ১৫ জন সদস্য ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বাদীকে ঢাকা সিটি করপোরেশনে লাইটিং স্থাপন, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন, বিমানবন্দরের লাইটিং প্রকল্প, বালু ভরাট এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পাথর সরবরাহসহ বিভিন্ন কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য তাকে রাজধানীর বিভিন্ন প্রকল্প এলাকা ও বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে দেখানো হয়।
একপর্যায়ে অর্ধেক অংশীদারত্বে বিভিন্ন কাজ করার কথা বলে বাদীর সঙ্গে চুক্তি করে চক্রটি। পরে চেকের মাধ্যমে বাদীর কাছ থেকে মোট ৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
টাকা নেওয়ার পর চক্রটির সদস্যরা তাদের অফিস বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। মোবাইল ফোনেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে মিজানুর রহমান ফতুল্লা থানায় অভিযোগ করলে গত ৯ আগস্ট মামলা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত এক দিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে জাবেদ বাদীর কাছ থেকে ৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে তার সঙ্গে আরও কয়েকজন সংঘবদ্ধ প্রতারক জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি তদন্ত সংস্থাটির।
তদন্তে আরও জানা গেছে, জাবেদ বিভিন্ন নামে ১০ থেকে ১২টি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতেন। একাধিক মোবাইল নম্বর ব্যবহারের পাশাপাশি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করতেন বলেও পিবিআই জানিয়েছে।
পিবিআইয়ের দাবি, জাবেদই চক্রটির মূলহোতা। তার সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যরা দেশের স্বনামধন্য ও আর্থিকভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের টার্গেট করে তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করে বিশ্বাস অর্জনের পর প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিতেন। এক দিনের রিমান্ড শেষে গত ২১ আগস্ট জাবেদকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ (বিপিএম) জানান, সংঘবদ্ধ প্রতারণার ঘটনায় দালিলিক ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে মূলহোতাকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও অভিযান চলমান রয়েছে।

