শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

|

ভাদ্র ৫ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নাগালের বাইরে সবজি-মাছ, চড়া দামে নিত্যপণ্য

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৬:৪২, ২১ আগস্ট ২০২৬

নাগালের বাইরে সবজি-মাছ, চড়া দামে নিত্যপণ্য

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জে বর্ষা মৌসুমেও স্বস্তি নেই কাঁচাবাজারে। বাজারে বেশিরভাগ সবজি ও মাছের দাম চড়া থাকায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষ। আয় বাড়ছে না, অথচ প্রতিদিনের বাজার খরচ বেড়েই চলেছে। ফলে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ শহরের কালীরবাজার, দিগুবাবুর বাজার, ২ নম্বর রেলগেট ও আশপাশের কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে পটল ৮০ টাকা, কাকরোল ১০০, করলা ৮০-১০০, দেশি শসা ১০০, হাইব্রিড শসা ৭০-৮০, ঢেঁড়স ৮০, বরবটি ৮০, ধুন্দুল ৮০ এবং বেগুন ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টি কুমড়া ৬০, গাজর ১২০, লাউ ৬০-৮০, জালি কুমড়া ৮০, কচুর মুখি ৮০, লতি ৮০ এবং পেঁপে ৪০ টাকা কেজি।

শাকের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। লালশাক ও শাপলা ফুলের আঁটি ২০ টাকা, লাউশাক, পুঁইশাক ও ডাঁটাশাক ৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০-৫০ টাকা।

বাজার করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, “এক কেজি-দুই কেজি করে কয়েক ধরনের সবজি কিনলেই অনেক টাকা চলে যাচ্ছে। মাছ-মাংস তো এখন নিয়মিত কেনার কথা চিন্তাও করা যায় না। সংসারের অন্যান্য খরচ মিটিয়ে বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”

সবজি বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়েও দাম কমানো যাচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমে সরবরাহের ওঠানামা ও পরিবহন ব্যয়ের প্রভাবও বাজারে পড়ছে বলে জানান তারা।

সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। ৪০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি ১ হাজার ৫০০ টাকার বেশি এবং ২০০-২৫০ গ্রামের ইলিশ ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

রুই ও কাতলা মাছের দাম ৩৩০-৩৫০ টাকা থেকে শুরু করে আকারভেদে ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি। আইড় ৮০০-১ হাজার, কাঁচকি ৬০০, পাবদা ৫০০-৬০০, রুপচাঁদা ১ হাজার ২০০, বেলে ১ হাজার ২০০, ট্যাংরা ৮০০ এবং বড় চিংড়ি ৯০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এক মাছ ক্রেতা বলেন, “আগে সপ্তাহে অন্তত কয়েক দিন মাছ কেনা হতো। এখন দাম দেখে একবার মাছ কিনতেও হিসাব করতে হয়। ইলিশ তো অনেকের জন্য বিলাসী খাবারে পরিণত হয়েছে।”

তবে চালের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি। খুচরা বাজারে মিনিকেট (মোজাম্মেল) ৮৫ টাকা, মিনিকেট (রশিদ ও ফ্রেশ) ৮০, আঠাশ ৬০, পাইজাম ৬০ এবং গুটি-স্বর্ণা ৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির মিনিকেট (মোজাম্মেল) ৩ হাজার ৬০০ টাকা, মিনিকেট (রশিদ) ৩ হাজার ১০০, আঠাশ ২ হাজার ৬০০, পাইজাম ২ হাজার ৫৫০-২ হাজার ৬০০ এবং গুটি-স্বর্ণা ২ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, মোটা চালের দাম কিছুটা কমতির দিকে রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের বাজারে গরুর মাংস ৭৮০-৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ এবং বকরির মাংস ১ হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ২০০, সোনালি ৩৩০ এবং লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকা কেজি। ফার্মের ডিমের হালি ৫০ টাকা।

ডালের মধ্যে দেশি মসুর ১৬০-১৭০, মোটা মসুর ১০০-১১০ এবং মুগ ডাল ১৭০ টাকা কেজি। বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৯ এবং খোলা সয়াবিন তেল ২০২ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের দাম ৫০, আলু ২৫-৪০, আদা ১৬০-১৮০, দেশি রসুন ১২০ এবং আমদানি করা বড় রসুন ১৬০ টাকা কেজি।

ক্রেতাদের অভিযোগ, একদিকে সবজি ও মাছের দাম বাড়তি, অন্যদিকে মাংস, ডিম, ডাল ও রান্নার তেলের দামও কমছে না। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের মাসিক বাজেটে চাপ বাড়ছে। বাজারে নিয়মিত নজরদারি এবং পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের দামের পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।