ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে অটোরিকশা ও ইজিবাইক গ্যারেজে ঢুকে ম্যানেজারসহ কয়েকজনকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের ব্যাটারি ও অন্যান্য মালামাল ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার হৃদয়কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রোববার (২৩ আগস্ট) র্যাব ১১ এর অপস অফিসার ক্যাপ্টেন মোঃ রওনক এরফান খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। এর আগে রাত ২টা ৫ মিনিটের দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানাধীন ভূঁইঘর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামি হৃদয় (২৯) বরিশালের মুলাদী থানার আলিমাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুর রব হাওলাদার এবং মায়ের নাম মোকসেদা বেগম। তার বিরুদ্ধে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতির নয়টি মামলা রয়েছে।
র্যাব-১১ সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুলাই রাতে বন্দরের আন্দিরপাড় এলাকায় সাহেরা গার্ডেনের পাশে মরিয়ম অটো-সিএনজি নামের একটি গ্যারেজে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই রাতে গ্যারেজে প্রতিদিনের মতো ৩২টি অটোরিকশা, মিশুক ও ইজিবাইক চার্জে রাখা ছিল।
ভোর সাড়ে ৪টার দিকে হৃদয়সহ ৮ থেকে ৯ জনের একটি দল গ্যারেজের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তারা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে গ্যারেজের ম্যানেজার ফয়সাল এবং কয়েকজন অটোরিকশা মালিককে জিম্মি করে।
একপর্যায়ে ডাকাতরা রশি ও কাপড় দিয়ে তাদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে মাটিতে ফেলে রাখে। পরে গ্যারেজে থাকা নগদ ২২ হাজার টাকা এবং অটোরিকশা, মিশুক ও ইজিবাইকের প্রায় ১০৬টি ব্যাটারি নিয়ে যায়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর গ্যারেজের মালিক নিলুফা আক্তার বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি হওয়ার পর জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র্যাব-১১।
এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফতুল্লার ভূঁইঘর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে তদন্তে ডাকাতির ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে।
গ্রেপ্তারের পর হৃদয়কে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। ডাকাত দলের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

