শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

|

ভাদ্র ৫ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ওয়াসার পানি কালো ময়লা দুর্গন্ধ, নাসিকের থোরাই কেয়ার!

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৭:২৮, ২১ আগস্ট ২০২৬

ওয়াসার পানি কালো ময়লা দুর্গন্ধ, নাসিকের থোরাই কেয়ার!

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার সরবরাহ করা পানিতে ময়লা, কালচে ভাব ও তীব্র দুর্গন্ধ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন পানি পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। তাদের অভিযোগ, পানির মান নিয়ে বারবার বলা হলেও কার্যকর সমাধান মিলছে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ডিপ ড্রেনের কাজ চলার সময় শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক, মাসদাইর, গলাচিপাসহ বিভিন্ন এলাকায় ওয়াসার পানির পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও পাইপ ফেটে বা ভেঙে যাওয়ার পর সেগুলো ঠিকমতো মেরামত না করায় ময়লা পানি সরবরাহ লাইনে ঢুকে পড়ছে। ফলে কল খুললেই কখনো ঘোলা, কখনো কালচে এবং দুর্গন্ধযুক্ত পানি বের হচ্ছে।

খানপুর এলাকার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, কলের পানি কয়েকদিন ধরে এমন নোংরা আসছে যে ব্যবহার করাই কষ্টকর। পান করার কথা চিন্তাই করা যায় না। ওয়াসার পানি কিনে বা অন্য জায়গা থেকে এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। আমরা নিয়মিত পানির বিল দিচ্ছি, অথচ নিরাপদ পানি পাচ্ছি না।

জামতলা এলাকার সালমান আহমেদ বলেন, সকালে কল খুললে অনেক সময় প্রথমে কালচে পানি বের হয়। কিছুক্ষণ পর রং কিছুটা পরিষ্কার হলেও দুর্গন্ধ থেকেই যায়। বাসার ছোট বাচ্চা ও বয়স্কদের জন্য এই পানি নিয়ে আমরা চিন্তায় আছি। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা।

মাসদাইর এলাকার রোজিনা বেগম বলেন, রান্না, গোসল কিংবা কাপড় ধোয়ার জন্যও এই পানি ব্যবহার করতে ভয় লাগে। পানিতে ময়লা থাকায় অনেক সময় কয়েকবার পানি ছেড়ে দিতে হয়। এতে পানিও নষ্ট হচ্ছে, খরচও বাড়ছে। এতদিন ধরে সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ।

গলাচিপা এলাকার আসিফ বলেন, ওয়াসার পানিতে দুর্গন্ধ থাকায় দৈনন্দিন কাজেও ভোগান্তি হচ্ছে। ড্রেনের কাজের কারণে যদি পানির লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি দ্রুত শনাক্ত করে মেরামত করার দাবি জানান তিনি।

মাসদাইর তালা ফ্যাক্টরি এলাকার বাসিন্দা অর্নব বলেন, পানির রং ও গন্ধ স্বাভাবিক না থাকায় রান্না ও খাবারের কাজে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ওয়াসার সংশ্লিষ্টদের সরেজমিনে এসে পরিস্থিতি দেখার আহ্বান জানান তিনি।

গলাচিপার গৃহিণী মকসুদা বেগম বলেন, প্রতিদিনের সংসার পরিচালনায় পানির প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সরবরাহ করা পানি ব্যবহার উপযোগী না হওয়ায় তাদের বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ডিপ ড্রেনের কাজ গুরুত্বপূর্ণ হলেও নির্মাণকাজের সময় ভূগর্ভস্থ পানি ও ওয়াসার পাইপলাইন রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। কোনো স্থানে পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত মেরামত না করলে ড্রেনের দূষিত পানি সরবরাহ লাইনে প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়।

তাদের অভিযোগ, বিষয়টি শুধু দুর্ভোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দূষিত পানি নিয়মিত ব্যবহারের কারণে জনস্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত পানির নমুনা পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এদিকে ওয়াসার পানির মান নিয়ে অভিযোগ থাকার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইন শনাক্ত, মেরামত এবং পানির গুণগত মান পরীক্ষা করে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

এবিষয়ে জানতে বেশ কয়েকবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।​