আহমেদুর রহমান তনু
খেলাধুলার মাধ্যমেই সুস্থ সমাজ বিকশিত হয়। আজকের এই আয়োজন যেন একদিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ও উই আর ভলান্টিয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতা আহমেদুর রহমান তনু।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বন্দর উপজেলার টি.এন.টি অফিস সংলগ্ন কবরস্থান রোডের বালুর মাঠে যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।
এর আগে বিকেল ৪টায় একই মাঠে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় তনু বলেন, রাজনীতি যে যার মতো করুক, এলাকার ভালোর জন্য সবাইকে একসঙ্গে থাকা জরুরি। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার যে প্রয়াস, যে আকাঙ্ক্ষা তা সবাই একসঙ্গে মিলে করাই সম্ভব। এককভাবে এসব সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, এই সমাজ আপনার, আমার, আমাদের সবার। তাই সমাজকে সুন্দর করার দায়িত্বও আমাদের সবার। তরুণ সমাজকে মাঠে রাখতে হবে। তাদের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত রাখতে হবে। কারণ একটি তরুণ যখন মাঠে থাকে, তখন সে অপরাধ ও মাদকের মতো খারাপ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার সুযোগ পায়।
বন্দরে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বুলবুল হত্যার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আহমেদুর রহমান তনু বলেন, বন্দরে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তা কারও কাম্য নয়। অপরাধীদের যারা আশ্রয়দাতা, তাদের বিরুদ্ধেও আপনারা সচেতন হোন। ভবিষ্যতে যাতে বন্দর বা নারায়ণগঞ্জে এমন ঘটনা না ঘটে, সেদিকে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করে একটি সমাজকে অপরাধমুক্ত করা সম্ভব নয়। সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তনু বলেন, আমরা যদি সবাই একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে অবশ্যই একটি সুন্দর, সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে পারব। আগামীর সুন্দর, সুস্থ একটি বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, আমি একজন ফুটবল প্লেয়ার। পাশাপাশি ক্রিকেট খেলায়ও ভালো ছিলাম। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ টিমের হয়ে ঢাকায় একাধিকবার খেলেছি। আমি স্ট্রাইকার ছিলাম। তাই খেলার অনুষ্ঠানের কথা শুনে সারারাত বুলবুল হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের অভিযানে থেকে না ঘুমিয়েও চলে এসেছি।
ওসি বলেন, সমাজ থেকে মাদক, কিশোরগ্যাং ও সন্ত্রাস থেকে দূরে রাখার একটাই পথ আর তা হলো খেলাধুলা। খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। তোমরা মন্দ কাজে না জড়িয়ে খেলাধুলায় এসেছো, এ জন্য তোমাদের ধন্যবাদ।
তিনি আরও বলেন, যারা শিক্ষার্থী রয়েছো, তারা পড়াশোনায় মনোযোগ দেবে। লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলার যেকোনো আয়োজনে আমাকে ডাকবে, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি।
সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ওসি বলেন, সমাজ সুন্দর করার দায়িত্ব তোমাদেরও রয়েছে। সমাজে মাদক, সন্ত্রাস, কিশোরগ্যাংসহ যেকোনো ধরনের অপরাধ দেখলেই ৯৯৯ নম্বরে অথবা আমাদের নম্বরে কল দেবে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশনে যাব।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বন্দর প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মামুন মিয়া, সমাজসেবক মো. ইউসুফ আতিক মানিক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. সেলিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বন্দর কবরস্থান রোড যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয় শুক্রবার বিকেল ৪টায়। খেলায় ১৮ সুপার জায়ান্টস চ্যাম্পিয়ন হয় এবং রানার্সআপ হয় টিম ব্রাদার্স। খেলার প্রথমার্ধে সুপার জায়ান্টস ০-১ গোলে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে টিম ব্রাদার্স ১-১ গোলে সমতা আনে। পরে আর গোল না হওয়ায় খেলা ট্রাইব্রেকারে গড়ায়। শেষে টিম ব্রাদার্সকে ০-২ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ান হয় ১৮ সুপার জায়ান্টস। পরে সন্ধ্যা ৭টায় বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
টুর্নামেন্টটি পরিচালনায় ছিলেন মাঈন, নারজু, আরিয়ান, নোমান, জুবাইর সোহান, নিপু, হৃদয়, ফাহিম ও মাশফি।

