ফাইল ছবি
বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের থানা সহসভাপতি বুলবুল আহমেদকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। তাদের অভিযোগ, প্রকাশ্যে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অপরাধীদের দৌরাত্ম্য এবং প্রশাসনের কার্যকর নিয়ন্ত্রণের ঘাটতির বিষয়টি সামনে এনেছে।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার বলেন, প্রকাশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে একজন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠককে হত্যা চরম বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ। বন্দরের বিভিন্ন এলাকায় চিহ্নিত অপরাধী, কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিরই প্রমাণ। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। বুলবুল হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক শওকত আলী বলেন, বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত অমায়িক ও ভালো মানুষ ছিলেন। সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন এবং ভালো ব্যবহার করতেন। তার বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ ছিল না।
শওকত আলীর অভিযোগ, বুলবুল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনসংক্রান্ত একটি মামলার বাদী ছিলেন। এ কারণে তার রিকশার গ্যারেজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ‘সিফাত বাহিনী’ নামে একটি গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “সিফাত বাহিনীর বিরুদ্ধে রিকশার গ্যারেজ লুটের মামলা করার পর তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। তিনি মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় তাকে রাস্তায় আটক করে কুপিয়ে ফেলে রেখে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
শওকত আলী আরও প্রশ্ন তোলেন, দীর্ঘদিন ধরে ‘সিফাত বাহিনী’র বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ শোনা গেলেও তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছে। কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়েছে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে—এ বিষয়েও তদন্তের দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, “একজন নিরীহ ও ভালো মানুষের এমন নির্মম পরিণতির দায় কে নেবে? মানুষ যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় থাকে, তাহলে স্বাভাবিক জীবনযাপন কীভাবে সম্ভব? এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলবে।”
বিরোধী দলের নেতারা বুলবুল হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে এর পেছনে থাকা কারণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বন্দরের অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি, চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তাদের মতে, কোনো রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় অপরাধীরা সক্রিয় থাকলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। তাই বুলবুল হত্যার সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি অতীতে যেসব অভিযোগে মামলা হয়েছে, সেগুলোরও কার্যকর তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

