শুক্রবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২২

|

অগ্রাহায়ণ ১৬ ১৪২৯

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী পণ্যবাহী ট্রেনের রেললাইন 

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৮:১০, ২১ নভেম্বর ২০২২

হারাতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী পণ্যবাহী ট্রেনের রেললাইন 

নারায়ণগঞ্জ জংশন রেলওয়ে স্টেশন

দেশের অন্যতম শিল্প নগরী নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ। এখানে ৮০-৯০ এর দশকে দেখা যেতো পণ্যবাহী ট্রেনের। চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জ জংশন রেলওয়ে স্টেশন হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ সাইলোর খাদ্য গুদামে এসে থামানো হতো ট্রেনকে। তবে যাত্রী বহন নয়, শুধু মাত্র খাদ্য পরিবহনে যাতায়াত ছিলো ট্রেনগুলোর।

ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের বিখ্যাত প্রাচীনতম রেললাইনটি পূর্বে পাট ও গম ব্যবসায়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। বিশেষ করে আদমজী জুট মিলের পাট এবং সাইলো খাদ্য গুদামের গম পরিবহনের ক্ষেত্রে। সিদ্ধিরগঞ্জ এরিয়ার সাইলো খাদ্য গুদামটি পুরো দেশব্যাপী পরিচিত। 

তথ্যসূত্রে জানা , ২০০২ সালের পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় এখানকার রেললাইনের ট্রেন চলাচল। তখন থেকে রেললাইনের আশপাশের জায়গাগুলো বেদখলে পরিণত হয়ে যায়। দখলদারদের বেদখলে পরিত্যক্ত রেললাইনের পরিবেশ নেই বললেই চলে। 

চলাচলরত অবস্থায় প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি ট্রেন আসতো এখানে। প্রতিটি ট্রেনের বগি সংখ্যা ছিলো ১৩ টি থেকে ১৫ টি। আড়াই থেকে তিনঘণ্টার ব্যবধানে যাতায়াত ছিলো ট্রেনের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রেললাইন লাইনে ব্যবহৃত জমি ও আশপাশের জমিতে বিভিন্ন স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের দখলে নিয়ে বাড়িঘর ও বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। 

রেলের লাইনগুলোর পরিত্যক্ত পাতের খোঁজখবরও রাখেনি রেলওয়ে কর্মকর্তারা। লুটপাট ও সড়কের কাজের চাপায় পড়ে  অপচয় অবস্থায় পড়ে গেছে সেগুলো। 

বিভিন্ন স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে খাদ্য গুদাম এবং ২০০২ সালে আদমজী জুটমিল বন্ধ হওয়ার পর পাটের কাজকর্ম বন্ধ হলে ট্রেন চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। তবে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টারের দেওয়া তথ্য মতে, ২০০৪ সালে সর্বশেষ ট্রেন চলাচল করতো এখানে। 

কথা হয় শাহাবুদ্দিন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি সঙ্গে। তিনি জানান, যখন আদমজী জুটমিল চালু ছিলো আমরা সেখানে বসবাস করতাম। মাঝেমধ্যে আমরা ট্রেনে উঠে পাওয়ার হাউস নেমে আবার মিলে চলে যেতাম। মূলত আদমজীতে পাট আনা নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো ট্রেন। তবে যখন ২০০২ সালে আদমজী জুটমিল বন্ধ হয়ে যায় তারপর আর ট্রেন চলাচল দেখা যায়নি এখানে। 

সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আলমগীর হোসেন বলেন, একটা সময় আমাদের এখানে ট্রেন চলাচল করতো। গম দেওয়ার জন্য ট্রেন আসলে মাঝেমধ্যে আমরাও ট্রেনে উঠে নারায়ণগঞ্জ যেতাম। তখনকার সময়টা খুব ভালো লাগতো। এখনো সেই স্মৃতি মনে পড়ে। কারণবশত ট্রেন চলাচল বন্ধ হওয়ার পরপরই রেলের আশপাশের জায়গাগুলো দখল করে নিয়ে যায় মানুষজন। 

নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার কামরুল ইসলাম জানান, সর্বশেষ ২০০৪ সালে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জে। 

বেদখলের বিষয়ে তিনি বলেন, বেদখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনো পর্যন্ত আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো কাগজপত্র পাইনি। এটা ঢাকা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করলে জানা যাবে। এই প্রজেক্টের সঙ্গে আলোচনা করে বলতে হবে। এখানে এখনো কোনো কাগজপত্র আসেনি।

এদিকে রেলওয়ে প্রজেক্ট অফিসার মো. সিদ্দিকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এখন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। এ বিষয়ে আমি বলতে পারছি না। এটা রেলওয়ে