ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনের হামলার ঘটনায় ধৃত হামলাকারী আল আমিন, মারুফ হাসানসহ অজ্ঞাত ১৫-২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) জেলার ফতুল্লা মডেল থানায় সকালে এনসিপি কর্মী মারুফ বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী মারুফ (১৮) জাতীয় নাগরিক পার্টির জাতীয় ছাত্র শক্তি নারায়ণগঞ্জ মহানগরের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা প্রায় ৭টায় তিনি সহকর্মী আবু তাহের (২২), জহিরুল (২৪) এবং এনসিপি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে ফতুল্লা থানার দেওভোগ বাশমুলি এলাকায় গণভোটের পক্ষে সাধারণ জনগণের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছিলেন।
এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত একদল ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে হামলা চালায়। আসামীরা হলেন, গাইবান্ধা জেলার বল্লমঝার এলাকার ইদ্রিস আলী ও নুর জাহানের পুত্র আল আমিন (২৪) এবং ফতুল্লার চর কাশিপুর এলাকার মৃত আইয়ুব আলী ওরফে আরব আলীর পুত্র মারুফ হাসান (২২)। তাদের সঙ্গে আরও অজ্ঞাতনামা ১৫ থেকে ২০ জন দুষ্কৃতকারী হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা ছোরা, চাকু, লোহার রড ও কাঠের ডাসা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে মারুফ হাসান তার হাতে থাকা চাপাতির উল্টো পিঠ দিয়ে বাদী মারুফের পিঠ ও পায়ে আঘাত করে নীলাফোলা ও রক্ত জমাট জখম সৃষ্টি করে। পরে আবু তাহের ও জহিরুল তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আল আমিনসহ অন্যরা লোহার রড ও কাঠের ডাসা দিয়ে তাদের ওপরও মারধর করে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আল আমিন এক পর্যায়ে বাদীর গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে বলে, ভবিষ্যতে এনসিপির হয়ে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।
ঘটনার খবর পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানার টহল পুলিশ ও র্যাব-১১ আদমজীনগর ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামীরা পালিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে র্যাব ও পুলিশের সহায়তায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাদী ও তার সঙ্গীরা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর এনসিপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় হাজির হয়ে এজাহার দায়ের করেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফতুল্লা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান জানান, আমরা অভিযোগের পরপরই ঘটনা স্থলে গিয়ে দুইজন আসামীকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হই। তাদেরকে বৃহস্পতিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়। ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

