ফাইল ছবি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ। কোনো রাজনৈতিক জোটে না গিয়ে নিজেদের শক্তির ওপর ভর করেই নির্বাচনি মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ঢাকায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির শীর্ষ নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় দেশের যেসকল আসনে ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থীরা আছে তাদের সকলেই নির্বাচনে অংশ নেবেন। মনোনয়ন প্রত্যাহার করা হবে না।
দলটির নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কার্যক্রম, ধর্মপ্রাণ ভোটব্যাংক এবং স্থানীয় পর্যায়ে জনপ্রিয়তার কারণে নারায়ণগঞ্জে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫ আসনে দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি ও জনসমর্থন তুলনামূলকভাবে বেশি বলে মনে করছেন নেতারা।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গোলাম মসীহ্। একইভাবে নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা) আসনে প্রার্থী হয়েছেন মুফতি ইসমাইল সিরাজী এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে দলটির হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মুফতি মাসুম বিল্লাহ।
বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনকে ঘিরে দলটির আশাবাদ সবচেয়ে বেশি। এ আসনের প্রার্থী মুফতি মাসুম বিল্লাহ এর আগে একাধিকবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। নির্বাচনি অভিজ্ঞতা ও নিয়মিত গণসংযোগের কারণে এলাকায় তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা। ফলে এ আসনে ভালো ফলাফলের বিষয়ে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ বেশ আত্মবিশ্বাসী।
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে মো. ইমদাদুল্লাহ এবং নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে মুফতি হাবিবউল্লাহ হাবিব দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে তাদেরও ভালো অবস্থান রয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে দল সূত্রে জানা গেছে।
নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণার মাধ্যমে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচনের মাঠে চরমোনাই পীরের দল কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।

