বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেছেন, বিএনপি চেয়ারম্যান সাহেব একদিন বলেছে জামায়াত একসময় সরকারে ছিল। তারা কেন পদত্যাগ করলেন না। আমীরে জামায়াত এর একটা জবাব দিয়েছেন। আমরা পদত্যাগ করিনি দুর্নীতির সমুদ্রে থেকেও যে জামায়াত সৎ থাকতে পারে এটা প্রমানে আমরা পদত্যাগ করিনি। সাধারণ মানুষকে বুঝানো হয়েছিল হুজুররা কীভাবে দেশ চালাবে। আমরা সেটা প্রমান করতে চেয়েছি যে হুজুররাও রাষ্ট্র চালাতে পারে। আমরা পদত্যাগ করলে এটা প্রমান হত না। তিনটি মন্ত্রণালয়ে একটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ কেউ তুলতে পারবে না।
বুধবার (৪ জানুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ চিটাগাং রোডে জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি বলে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড দিবো। ভুয়া গুজব বানাতেও তো সময় লাগে। এগুলো শেখ হাসিনার দশ টাকা সের চালের ওয়াদার মত। নৌকা, লাঙ্গল, দাঁড়িপাল্লা দেখা শেষ। আমাদের দেখা বাকি এখন। আমরা যারা নতুন দল আছি তাদের দেখা বাকি।
তিনি বলেন, এ নারায়ণগঞ্জে নির্মমতার ইতিহাস ওরা তৈরি করেছে। নারায়ণগঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ জেলা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আমরা পেছনে যেই কালো যুগ ফেলে এসেছি৷ আজ যাদের সাথেই দেখা হয় জিজ্ঞেস করি আগামী নির্বাচনে কী হবে। মানুষ বলে আমরা অনেক মার্কায় ভোট দিয়েছি, আমরা পরিবর্তন চাই। আমরা এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিবো।
তিনি আরও বলেন, নারায়ণগঞ্জ বাংলাদেশে নানান কারণে আলোচিত ও সমালোচিত। এই নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে নারায়ণগঞ্জের এক সাহসী মানব লিখে রেখেছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের প্রবেশ নিষেধ। আমি যাওয়া আসার সময় এটা দেখতাম। আজও আমি আসার সময় ভাবতাম আল্লাহর কী রহমত। মানুষের কোন ইচ্ছা পূরণ হয় না যতক্ষণ আল্লাহ না চায়। আজ আল্লাহ জামায়াতকে ঢোকার ব্যাবস্থা করে দিয়ে তাকে বের করে দিয়েছে। তার নেত্রীও এভাবে ভাবতেন। কাপুরুষের মত তাকেও পালিয়ে যেতে হয়েছে।
তিনি বলেন, এখান থেকে অনেকের শেখার আছে। আমাদেরও শেখার আছে। বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি সবার শেখার আছে। ক্ষমতায় আসলে কখনও এত দাম্ভিক হতে হয় না। জুলাই আগষ্টের আন্দোলন এটা আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে।
জুলাই আন্দোলনে এখানে অনেকে শহীদ হয়েছেন এই নারায়ণগঞ্জে। অনেকে আহত হয়ে ক্ষতচিহ্ন বয়ে বেড়াচ্ছেন। অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তারা ইতিহাস রচনা করেছে।
তিনি বলেন, পরিবর্তন মানে স্বাধীনতার পরে ৫৪ বছর যারা দেশ শাসন করেছে তাদের লাল কার্ড দেখাতে হবে। রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ও দলীয়করণ করা হয়েছে। হাজারও কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। খুনী মাদক ব্যাবসায়ীরা প্রকাশ্যে গুম খুন করছিল, তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করছিল? কিন্তু সমাজের ভাল মানুষগুলোকে বিনা বিচারে আটক করে আটকে রাখা হয়েছিল।
আমি কারাগারে থাকা অবস্থায় জানতে পারি সিদ্ধিরগঞ্জে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় আমি আসামি হয়েছি। আমার বাড়ি খুলনায় আমি জেলে, সেখানে থেকেও নাকি গাড়ি পুড়িয়েছি। পরে আমাকে এখানে রিমান্ডে আনা হয়েছিল। সিদ্ধিরগঞ্জে আমরা স্মৃতি রয়েছে।
আমরা পরিবর্তন বলতে বুঝাচ্ছি যারা ৫৪ বছর দেশ শাসন করেছেন তারা ইনসাফ, মানবিকতার পরীক্ষায় ব্যার্থ হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির অনেক বন্ধুরা থাকতে পারেন। তাদের প্রশ্ন করলে কেউ কী প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে ক্ষমতায় থেকে দুর্নীতি করেনি এমন কেউ বলতে পারবে? তারা চরিত্রের পরীক্ষার সততার পরীক্ষায় ব্যার্থ। ফেলু পার্টি দিয়ে দেশ চলবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে চেনে। আমরা ইসলাম থেকে যা শিক্ষা পেয়েছি আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা রটিয়ে পার পাওয়া যাবে না। আজকাল মিথ্যা ফটোকার্ড ফেসবুকে দেয়া হচ্ছে। আপনারা এগুলো বিশ্বাস করবেন না। আমার বন্ধু যাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে তারা এখন মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছে।

