ফাইল ছবি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ জেলায় সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলার ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৫০টি ভোটকেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এবার নির্বাচন কমিশন ‘ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র’ শব্দটি ব্যবহার না করে কেন্দ্রগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’—এই দুই ভাগে ভাগ করেছে। সেই অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রায় অর্ধেকের বেশি ভোটকেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় এনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচনী উত্তেজনার মধ্যেই ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের আড়াইহাজার উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ফতুল্লা এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বন্দর উপজেলাতেও সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই এসব এলাকায় ছোট-বড় কয়েকটি অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধা দেওয়া, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৪৫০টি ভোটকেন্দ্রে পুলিশের বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এবিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তা রায়হান কবির বলেন, “নির্বাচন কমিশন এবার ঝুঁকিপূর্ণ শব্দটি ব্যবহার করছে না। কেন্দ্রগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ও সাধারণ—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৫০টি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত, যেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের গায়ে বডি-ওর্ন ক্যামেরা থাকবে।”
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা রাকিবুজ্জামান রেনু জানান, “বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি আলাদা তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই এই তালিকা প্রকাশ করা হবে। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে যে, সব ধরনের প্রস্তুতি ও নজরদারির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলায় একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

