শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

|

ফাল্গুন ১ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

স্বতন্ত্রদের শোচনীয় পরাজয়

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৫:১৯, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

স্বতন্ত্রদের শোচনীয় পরাজয়

ফাইল ছবি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দাপট নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও ভোটের ফলাফল সেই চিত্রকে পুরোপুরি উল্টে দিয়েছে। জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতেই হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও শেষ পর্যন্ত সবাইকে মেনে নিতে হয়েছে শোচনীয় পরাজয়। নির্বাচনী মাঠে প্রচার, আলোচনা ও গণমাধ্যমের শিরোনামে তারা যতটা এগিয়ে ছিলেন, ভোটের বাক্সে তার প্রতিফলন ঘটেনি।

এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় ছিলেন সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর, রেজাউল করিম, মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন, প্রার্থী শাহ্ আলম এবং মাকসুদ হোসেন। সাবেক এমপি ও সাবেক মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত এসব নেতাকে অনেকেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখলেও ভোটের ফলাফল বলছে ভিন্ন কথা।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুরকে শুরু থেকেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করা হচ্ছিল। নির্বাচনী এলাকায় তার সক্রিয়তা ও প্রচারণা ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, তিনি পেয়েছেন মাত্র ১৮ হাজার ৭৪৪ ভোট, যা তার প্রত্যাশার ধারের কাছেও নয়।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও চারবারের এমপি রেজাউল করিম। ভোটের মাঠে তার অবস্থান ছিল অত্যন্ত দুর্বল। ফলাফলে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৫৯৬ ভোট। একই আসনে আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন পেয়েছেন ২০ হাজার ৩৭৯ ভোট, যা তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট হয়নি।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের পরাজয় আরও হতাশাজনক। এ আসনে তিনি পেয়েছেন মাত্র ৪ হাজার ৭৭৯ ভোট। একই আসনে হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ্ আলম তুলনামূলক ভালো করলেও জয় থেকে ছিলেন অনেক দূরে। তিনি পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৫৮৯ ভোট।

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বহুল আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মাকসুদ হোসেনও আশানুরূপ ফল করতে পারেননি। নানা জল্পনা-কল্পনার মধ্যেও শেষ পর্যন্ত তার ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৩৪ হাজার ১৫১ ভোট।

সার্বিকভাবে এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে স্বতন্ত্র হেভিওয়েট প্রার্থীদের ভরাডুবি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় সমর্থন, সাংগঠনিক শক্তি এবং ভোটারদের বাস্তব সিদ্ধান্তের সামনে ব্যক্তিগত প্রভাব বা অতীত রাজনৈতিক পরিচয় আর আগের মতো কার্যকর নেই এই নির্বাচনে সেটিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।