ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের মুখে পড়েছেন বিএনপি জোটভুক্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশর প্রার্থী মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী। এই আসনে শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়েছেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল আমিন।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাসেমীর পরাজয়ের পেছনে একাধিক কারণ থাকলেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা। অনেক ভোটারের মতে, বিএনপি জোটের প্রার্থী হয়েও আওয়ামী ঘরানার পরিচিত মুখদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামায় কাসেমীর প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়।
স্থানীয়রা জানান, কাসেমীর অন্যতম সহযোগী হিসেবে প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন মাওলানা ফেরদৌস। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শামীম ওসমান–এর ছোট ভাই হিসেবে পরিচিত। এ কারণে শুরু থেকেই কাসেমীর নির্বাচনী টিম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন ভোটারদের একটি বড় অংশ।
এছাড়া কুতুবপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুকেও কাসেমীর পরাজয়ের একটি বড় কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। সেন্টু একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে শামীম ওসমানের হাত ধরে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এ যোগ দেন এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এমন একজন ব্যক্তির সক্রিয় উপস্থিতি কাসেমীর নির্বাচনী প্রচারণায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মত স্থানীয়দের।
ভোটারদের অভিযোগ, শুধু সেন্টু বা ফেরদৌসই নন—নির্বাচনজুড়ে আরও কয়েকজন বিতর্কিত ব্যক্তি কাসেমীর আশপাশে ঘোরাফেরা করেছেন। এতে করে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভুল বার্তা গেছে এবং ধীরে ধীরে তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। অনেকেই মনে করেছেন, কাসেমী নির্বাচিত হলে আওয়ামী ঘনিষ্ঠ এই গোষ্ঠীরই প্রভাব বেশি থাকবে।
সব মিলিয়ে, ধর্মীয় ভাবমূর্তি ও বিএনপি জোটের প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে স্পষ্টতা না থাকায় এবং আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে চলার কারণেই মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

