ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জ জেলার সংসদীয় আসনগুলোতে এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর জন্য হতাশাজনক ফলাফল এসেছে। জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে তিনটি আসনে প্রার্থী দিলেও একটিতেও জয় পায়নি দলটি। একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা তুলনামূলক জমজমাট হলেও বাকি দুইটি আসনে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের মুখে পড়েছেন জামায়াত প্রার্থীরা।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন আনোয়ার হোসেন মোল্লা। ভোট গণনা শেষে এ আসনে বিজয়ী হন বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু। শুরু থেকেই এই আসনে বিএনপি প্রার্থীর এগিয়ে থাকার চিত্র দেখা যায়।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ইলিয়াছ মোল্লাও ভোটের মাঠে প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি। এ আসনে বিএনপির নজরুল ইসলাম আজাদ বিজয়ের পথে আছেন। ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট ব্যবধান থাকায় জামায়াত শিবিরে হতাশা আরও বেড়ে যায়।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয় নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনকে ঘিরে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নানের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। ভোট গণনার শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা থাকলেও অনেক ভোটে বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান জয়ী হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠনগত দুর্বলতা, মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত সক্রিয়তা না থাকা এবং ভোটারদের আস্থার ঘাটতির কারণেই জামায়াত কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জামায়াত প্রার্থীরা পিছিয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেন তারা।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা দেখা গেলেও দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ফলাফল পর্যালোচনা করে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
এবারের নির্বাচন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক চিত্রে বিএনপির শক্ত অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

