রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

|

কার্তিক ১৬ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

মুছাপুরে আগুন সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিবো না : আশা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১৮:৪৪, ১ নভেম্বর ২০২৬

মুছাপুরে আগুন সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিবো না : আশা

মতবিনিময় সভা

মুছাপুর ইউনিয়নের বিএনপি সকল নেতৃবৃন্দকে এক মঞ্চে উঠিয়ে ঐক্যবদ্ধ ঘোষনা দিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক সচিব ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল কাউসার আশা। এ সময় তিনি বলেন, এই মুছাপুর ইউনিয়ন সারাজীবন ধানের শীষের ভোট ব্যাংক ছিলো। এই মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সারাজীবন উর্বর একটি জমি ছিলো। এটা নষ্ট হল কিভাবে, এটা তিলে তিলে নষ্ট হলো কিভাবে। আমাদের কিছু মুনাফেক তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য ফ্যাসিষ্টদের সঙ্গী হয়ে ছিলো।

সোমবার ১ নভেম্বর বিকালে মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। মো. তারা মিয়া সভাপতিত্বে বন্দর উপজেলা ও মুছাপুর ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

আবুল কাউসার আশা বলেন, আজকে মুছাপুরে জাতীয়তাবাদী দলের মিলন মেলা সৃষ্টি হয়েছে। সবাই আজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সকল ভুল বুঝাবুঝি ভেদাভেদ ভুলে গিয়েছি। পাচঁটি ইউনিয়নের মধ্যে মুছাপুর ইউনিয়নটি অনেক রকম। সকল ধর্মের মধ্যে এখনে সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় উৎসব এখানে হয়ে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়ন্ত্রণ রাখা হত, তার বিরোধীতা করা হলে হামলা মামলা দেয়া হত। পাচঁ তারিখ পরিবর্তে বলেছিলাম এই মুছাপুরে স্বাধীন করতে হবে। স্বাধীন বলতে কি বাড়ি আগুন দিয়ে দেওয়া। স্বাধীণতা পড়েও এই মুছাপুরে আগুন দিয়েছিলো। পাচঁ তারিখের পরেও এখানে ৩২টি বাড়িতে আগুন দিয়েছিলো। ফ্যাসিষ্টদের বাড়িতেও তো আমরা দিতে পারতাম, কিন্তু আমার কি দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাদের বড় জয়ের পরও কি আমরা কোথায় আগুন দেয়া হয়নি। আগুন সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিবো না। যারা আমাদের বাড়িগুলো দখল করে নিলো, যারা আমাদের স্বপ্নের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দিলো, তাদের কে কি আমরা এমনই ছেড়ে দিবো। এই জন্য আমাদের ঐক্য দরকার।

আশা বলেন, আমি রাজনীতির সাথে যুদ্ধে এই পর্যন্ত এসেছি। আমার সাথে সঙ্গী থাকলে ভালো, কিন্তু মুনাফেক থাকলে যন্ত্রণা আছে। আমাদের তৃনমূল সারাজীবন শক্তিশালী ছিলো শক্তিশালী আছে, এটাই আমাদের শক্তি। আমাদের ব্যথর্তা সৃষ্টি হয় নেতৃত্ব নিয়ে, যেন আপোস হয়ে চলি। কারো যদি বিরোধীতা করেন করবেন, কিন্তু মুনাফেকি করবেন না। এতে কি হয় আমাদের তৃনমূল সামাজিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। 

তিনি আরও বলেন, দল ক্ষতি হয় বা মুনাফিকী করবেন এমন নেতাদের নাম বলতে আমার সময় লাগবে না। দল জানে একটা অফিস দখল করে ফেললেন, দল জানে না একটা অফিস করে বসলেন এমন কান্ড করলে দলী ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। বক্তব্য দিবেন এখানে, রাতে গিয়ে কথা বলবেন এমন তথ্য পাওয়া গেলে তাকে সাংগঠনিক ও সামাজিক ভাবে বয়কট করা হবে। এই মুছাপুর ইউনিয়ন সারাজীবন ধানের শীষের ভোট ব্যাংক ছিলো। এই মুছাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সারাজীবন উর্বর একটি জমি ছিলো। এটা নষ্ট হল কিভাবে, এটা তিলে তিলে নষ্ট হলো কিভাবে। আমাদের কিছু মুনাফেক তাদের স্বার্থ হাসিল করার জন্য ফ্যাসিষ্টদের সঙ্গী হয়ে ছিলো। ফ্যাসিষ্টের সঙ্গী থাকায় দীর্ঘ সময়ে থাকায় তাদের বিরুদ্ধে মামলাও নাই আবার কারানির্যাতিত নেতা বলারও সুযোগও নাই। ওই মুনাফেকদের আগে চিহিৃত করতে হবে।

নির্বাচন নিয়ে আশা বলেনম সামনে নির্বাচন আসতাছে, ইউনিয়ন সিটি কর্পোরেশন উপজেলা পরিষদের। এতে অনেকে চলে আসবে, আপনারা সকলে দেখবেন। আপনারা সকলেই জাতীয়তাবাদী দলের বিশ্বাস হয়ে থাকেন তাহলে দলের প্রতি আস্থা রাখুন। আমাদের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন না। দল যদি আপনাকে চান তাহলে ছবি ব্যবহার করবেন। ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিএনপিকে ফিরে আনতে হবে মুছাপুরে। দলকে একটা করা যাবে না, তাহলে ফ্যাসিষ্টদের দোসরা আবার আগুন দেয়া চেষ্টা করে যাবে।

ফ্যাসিষ্টদের উদ্দেশ্যে আশা বলেন, আপনার যারা শক্তিশালী ভাবছেন তার কত ভোটের মালিক। ভয়ের কারণে তারা আপনাদের আঘাত করতে চায়। তার তো প্রতিযোগিতাতেই নাই, এই জিম্মি দশা থেকে আপনাদের বের হতে হবে। সেই জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে। এই জনগণের কাছে আমরা ১৭ বছর আশ্রিত ছিলাম আমরা। মানুষের সাথে সদাচরণ করতে হবে আমাদের। জমিজমা দখল নিয়ে একজনকে আওয়ামীলীগ বানিয়ে দিচ্ছেন, এতে তাদের তালিকা বড় হচ্ছে। যারা করছেন তাদের বিরুদ্ধে আমাদের এক সময় হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।