সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪

|

শ্রাবণ ৬ ১৪৩১

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

ধলেশ্বরী নদীর খেয়াঘাট নদীগর্ভে বিলীনের শঙ্কা, সড়ক দেবে চলাচলে দুর্ভোগ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:৩৩, ৬ জুলাই ২০২৪

ধলেশ্বরী নদীর খেয়াঘাট নদীগর্ভে বিলীনের শঙ্কা, সড়ক দেবে চলাচলে দুর্ভোগ

খেয়াঘাট

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেকের ধলেশ্বরী নদীর পুরান গোগনগর মাঝের চর (মধ্যেরচর) খেয়াঘাটের সড়কটির একটি অংশ দেবে যাওয়ায় চলাচলের সময় লোকজনের চরম দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ বিগত দেড় থেকে দুই বছর ধরে মাঝের চর এলাকার খেয়াঘাটের সড়কটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। 

স্থানীয় চেয়ারম্যানকে অবহিত করার পরও অদ্যাবধি মেরামত কাজ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল দশায় পড়ে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাসহ আশপাশের অসহায় মানুষজনক চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জরুরি ভিত্তিতে মাঝের চর (মধ্যেরচরের) খেয়াঘাটে চলাচলরত সড়কটির বেহাল অংশটুকু মেরামত করার জোর দাবি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। তা না হলে যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে ।

জানা যায়, আলিরটেক ইউনিয়ন এলাকাটি নারায়ণগঞ্জ-৫ (নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দর) আসন ও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলায় পড়েছে। আলিরটেক ইউনিয়নটি ধলেশ্বরী নদী বেষ্টিত। তাই আলিরটেক ইউনিয়নের অনেক বাসিন্দাদের ডিগ্রীরচর ও মধ্যেরচর খেয়াঘাট দিয়ে নদী পারাপার হয়ে নির্ধারিত গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। আলিরটেক ইউনিয়নের বহু বাসিন্দারা মধ্যেরচর খেয়াঘাট দিয়ে পার হয়ে সহজেই নারায়ণগঞ্জ শহরে যেতে পারছেন। এ ঘাট দিয়ে ধলেশ্বরী নদী পার হয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে গেলে অল্প ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারেন বলে স্থানীয়রা জানান। কিন্তু ডিগ্রীরচর খেয়াঘাট ও ফেরি দিয়ে ধলেশ্বরী নদী পার হয়ে শহরের গেলে কয়েকগুণ ভাড়া গুণতে হয়। এতে মূল্যবান সময় ও অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হয়। কিন্তু মধ্যেরচর খেয়াঘাটের চলাচলত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ধলেশ্বরী নদীতে দেবে গেছে। সড়কটি ব্যবহারে ঝুঁকি বাড়ছে। সড়কটি যে কোনো সময় নদীর গর্ভের বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে স্থানীয়রা জানান। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফলে ঘটতে পারে প্রাণহানিও। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত দেড় থেকে দুই বছর ধরে পুরান গোগনগর মাঝের চর খেয়াঘাট সড়কটির নদীর তীরের অংশটুকু বেহাল অবস্থা রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হন এখানকার মানুষজন। যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। খেয়াঘাটের সড়কটি ধলেশ্বরী নদীর তীরের অংশটুকু বেহাল অবস্থায় থাকায় ফুসে উঠছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। 

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, স্থানীয় চেয়ারম্যান তার নিজস্ব এলাকায় উন্নয়ন কাজ করছেন। মধ্যেরচর খেয়াঘাট এলাকার কোনো উন্নয়ন কাজ করছেন না।

আলিরটেক বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, খেয়াঘাটের সড়কটি বেহালদশায় থাকায় আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হচ্ছি। আমরা শহর ও বন্দর এলাকাধীন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বাসিন্দা। আমরা শহর এলাকাধীন আসনের লোকজন। যা পরিচয় দিতেও লজ্জাবোধ করছি। কারণ সদর উপজেলায় হয়েও দীর্ঘদিন ধরে খেয়াঘাটের সড়কটির একটি অংশ নদীতে ঢেবে গেছে। সড়কটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। চলাচল করা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেবে যাওয়া সড়কটি যে কোনো সময় ধলেশ্বরী নদী গর্ভে হারিয়ে যেতে পারে। 

তিনি বলেন, আমাদের ডিগ্রীরচর ঘাট ব্যবহার করে শহরে যেতে একশ টাকার বেশি খরচ হয়। মধ্যেরচর ঘাট ব্যবহার করে অল্প টাকায় শহরে যেতে পারছি। কিন্তু এ খেয়াঘাটের বেহালদশার কারণে অনেকেই মধ্যেরচর খেয়াঘাটটি ব্যবহার করে চলাচল করতে চাচ্ছেন না। কারণ যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। 

আলিরটেক ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) ফিরোজ মিয়া বলেন, গত এক থেকে দেড় বছর ধরে এ খেয়াঘাটের সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। এতে জনগণের চরম দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হচ্ছেন। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করার পর সরেজমিন পরিদর্শন করে গেছেন। পানি কমে গেলে মেরামত কাজ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।