বৃহস্পতিবার, ০১ জানুয়ারি ২০২৬

|

পৌষ ১৭ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

আজাদের নামে ব্যাংক ঋণ ১০ কোটি টাকা, মামলা ২৬ টি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১২:৩১, ১ জানুয়ারি ২০২৬

আজাদের নামে ব্যাংক ঋণ ১০ কোটি টাকা, মামলা ২৬ টি

ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ব্যতিক্রমী সম্পদ ও ঋণের চিত্র। ব্যক্তিগত নামে কোনো গাড়ি বা আবাসিক বাড়ি না থাকলেও তার নামে রয়েছে ২৭ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ। 

অন্যদিকে, গত সাত বছরে তার স্ত্রী খন্দকার নাঈমা নুসরাতের সম্পদ ও আর্থিক সক্ষমতা বেড়েছে অভাবনীয় হারে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ২০১৮ সালের তুলনায় তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৮৪১ গুণ।

মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামায় নজরুল ইসলাম আজাদ নিজে, তার স্ত্রী এবং নির্ভরশীল সন্তানদের আয়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, দায়, ঋণ এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করেছেন।

সেখানে দেখা যায়, বর্তমানে নজরুল ইসলাম আজাদের তুলনায় তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ ১২ গুণেরও বেশি।
হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে নজরুল ইসলাম আজাদের মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ২৯ লাখ ৬৮ হাজার ৭৫০ টাকা। বিপরীতে, তার স্ত্রী খন্দকার নাঈমা নুসরাতের নামে মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১৬ কোটি ৮২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৬৮ টাকা।

নজরুল ইসলাম আজাদ ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন। সে সময় দাখিল করা হলফনামায় তার স্ত্রীর নামে মাত্র ২ লাখ টাকা নগদ অর্থ দেখানো হয়েছিল এবং কোনো বার্ষিক আয়ের তথ্য উল্লেখ ছিল না। সর্বশেষ হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সাত বছরের ব্যবধানে তার স্ত্রীর আর্থিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে তার স্ত্রীর সম্পদের বড় অংশই নগদ অর্থ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

হলফনামার তথ্যমতে, পেশায় ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম আজাদের বার্ষিক আয় ৯ লাখ ৪ হাজার টাকা। তিনি এই আয়ের বাইরে অন্য কোনো আয় উৎসের কথা উল্লেখ করেননি।

অপরদিকে, তার স্ত্রী খন্দকার নাঈমা নুসরাতও ব্যবসা খাত থেকে বছরে ৬ লাখ ৯৯ হাজার ৬৯৮ টাকা আয় করেন বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। তবে, উভয়ের ব্যবসার ধরন, ব্যবসার ক্ষেত্র বা প্রতিষ্ঠানের নাম সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত বিবরণ সেখানে নেই।

দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে। তারা বর্তমানে শিক্ষার্থী হওয়ায় তাদের কোনো আয় নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

অস্থাবর সম্পদের খাতে দেখা যায়, নজরুল ইসলাম আজাদের অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ৭৫ লাখ ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ৪৯ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা। এছাড়া তার নামে ১৪ লাখ ৫৬ হাজার টাকার প্রাইজ বন্ড রয়েছে। তবে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার নামে কোনো নগদ জমার তথ্য নেই।

অন্যদিকে, তার স্ত্রী খন্দকার নাঈমা নুসরাতের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১৪ কোটি ৮০ লাখ ৬৮ হাজার ৭৬৮ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থই রয়েছে ১৪ কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৮০ টাকা। পাশাপাশি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ২৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৮৮ টাকা এবং প্রাইজ বন্ড রয়েছে ৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, নজরুল ইসলাম আজাদের কাছে উপহার হিসেবে পাওয়া স্বর্ণ রয়েছে ৪০ ভরি। তার স্ত্রীর নামে স্বর্ণের পরিমাণ ৩৬ ভরি। এছাড়া উভয়ের নামেই ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্রের তথ্য উল্লেখ রয়েছে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় নজরুল ইসলাম আজাদের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ২৬ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। সে সময় তার স্ত্রীর কোনো বার্ষিক আয় ছিল না এবং তার নামে মাত্র ২ লাখ টাকা নগদ অর্থ দেখানো হয়েছিল। সর্বশেষ হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে তার স্ত্রীর কাছে নগদ অর্থের পরিমাণই ১৪ কোটির বেশি।
স্থাবর সম্পদের হিসাবে নজরুল ইসলাম আজাদের নামে দশমিক ২৫ শতাংশ জমির ওপর একটি দোকান এবং হেবা সূত্রে পাওয়া ৪৬ শতাংশ জমির তথ্য রয়েছে। এই সম্পদ অর্জনের সময় মূল্য ছিল ৫৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, যার বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি টাকা। তবে হেবায় পাওয়া জমির বর্তমান মূল্য কত, তা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।

তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৪৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ জমি। এই জমিগুলোর ক্রয়মূল্য ছিল ২ কোটি ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং বর্তমান মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ কোটি টাকা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় নজরুল ইসলাম আজাদ কিংবা তার নির্ভরশীলদের নামে কোনো স্থাবর সম্পদ ছিল না।

দায় ও ঋণের অংশে দেখা যায়, নজরুল ইসলাম আজাদ বা তার নির্ভরশীলদের নামে কোনো ব্যক্তিগত দায় নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের গুলশান শাখায় মেসার্স এস অ্যান্ড জে স্টীল মিলের ৪০ শতাংশ অংশীদার হিসেবে তার নামে ২৭ কোটি ৩ লাখ ৬৬ হাজার ২৩০ টাকা ঋণ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে মোট ঋণের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৬৭ কোটি ৫৯ লাখ ১৫ হাজার ৫৭৫ টাকা।
২০১৮ সালে একই প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে নজরুল ইসলাম আজাদের নামে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ছিল ৭১ কোটি ৪৯ লাখ ১৫ হাজার ৫৪৫ টাকা। সে সময় তার নির্ভরশীলদের নামে আরও ১ কোটি ৬ লাখ টাকা ঋণ ছিল। সর্বশেষ হলফনামায় নির্ভরশীলদের নামে কোনো ঋণ নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আয়কর সংক্রান্ত তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে নজরুল ইসলাম আজাদ আয়কর দিয়েছেন ৫৮ হাজার ৪১০ টাকা। অপরদিকে, তার স্ত্রী আয়কর দিয়েছেন ৩৫ হাজার ৭৪৪ টাকা। যদিও সম্পদের হিসাবে তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ আজাদের তুলনায় ছয় গুণেরও বেশি, আয়করের পরিমাণে তার প্রতিফলন তুলনামূলকভাবে কম।
হলফনামার তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নজরুল ইসলাম আজাদ ও তার স্ত্রীর কারোরই ব্যক্তিগত গাড়ি বা নিজস্ব বাড়ি নেই।

মামলার তথ্যে দেখা যায়, নজরুল ইসলাম আজাদের বিরুদ্ধে মোট ২৬টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ২৪টি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। বিস্ফোরক আইনের একটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া অর্থ ঋণ আদালতে দায়ের করা একটি মামলা উভয়পক্ষের সমঝোতার কারণে বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় তার বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা ছিল ১৪টি।

হলফনামায় উল্লিখিত এসব তথ্য নির্বাচনকালীন সময়ে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের আর্থিক অবস্থা, সম্পদ বৃদ্ধি ও দায় সংক্রান্ত চিত্র তুলে ধরেছে, যা ভোটারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।