ফাইল ছবি
নতুন বছর ২০২৬ সালের প্রথম দিনেই নারায়ণগঞ্জে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাঠ্যবই পেয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির। বছরের শুরুতে বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে, যদিও রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে কোনো আনুষ্ঠানিক উৎসব আয়োজন করা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জ শহরের কয়েকটি সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন ও উদ্বোধন শেষে জেলা প্রশাসক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রায় সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটি প্রশাসনের পাশাপাশি শিক্ষা বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির আরও জানান, এবছরের বইয়ের কাগজ, ছাপা ও বাঁধাইয়ের মান আগের তুলনায় ভালো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পাঠ্যবইয়ের মানোন্নয়ন একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে তিনি এটি উল্লেখ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সময়মতো বই পৌঁছানোর এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বই আগেই পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। সে কারণে ১ জানুয়ারি সকালে কোনো ঘাটতি ছাড়াই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করা সম্ভব হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শিক্ষকদের কাছ থেকে বই গ্রহণ করে।
তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ৩দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা থাকায় এবার সারাদেশের মতো নারায়ণগঞ্জেও বই বিতরণ উৎসব আয়োজন করা হয়নি। জেলা প্রশাসক জানান, রাষ্ট্রীয় শোক চলমান থাকায় আনুষ্ঠানিকতা পরিহার করে অনানুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে।
এদিকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখের বেশি বই মুদ্রণ করা হয়েছে। এসব বইয়ের ছাপা, বাঁধাই ও কাটিংয়ের কাজ শতভাগ শেষ করে আগেই উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হয়। ফলে প্রাথমিক স্তরে বছরের প্রথম দিনেই বই বিতরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জে মাধ্যমিক স্তরের বই বিতরণ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে। জেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্র জানায়, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির অনেক বই এখনো পুরোপুরি ছাপা ও সরবরাহ শেষ হয়নি।
জাতীয়ভাবে মাধ্যমিক, দাখিল ও কারিগরি স্তরের মোট বইয়ের একটি বড় অংশ ছাপা হলেও এখনো প্রায় অর্ধেক বই বিদ্যালয়ে পৌঁছায়নি। এর প্রভাব নারায়ণগঞ্জের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতেও পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ প্রিপারেটরি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রাথমিকের মতো মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীরা এখনো সবাই নতুন বই পাবে না। পর্যায়ক্রমে বই আসলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। তবে সবাইকে কিছু কিছু করে বই দেয়া হচ্ছে। অনেক শিক্ষক মনে করছেন, মার্চ মাসের আগে সব শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ সেট বই পাবে না।
এদিকে রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালে বই বিতরণ হবে কি না, তা নিয়ে অনেক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, উৎসব না হলেও ১ জানুয়ারি সারা দেশের মতো নারায়ণগঞ্জের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই বিতরণ কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতে নারায়ণগঞ্জে প্রাথমিক স্তরে শতভাগ বই বিতরণ হলেও মাধ্যমিক স্তরে আংশিক ঘাটতি রয়ে গেছে। তারপরও বছরের প্রথম দিনে বই হাতে পাওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ দেখা গেছে, যা নতুন শিক্ষাবর্ষে তাদের পড়াশোনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

