রোববার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

|

মাঘ ১৮ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আবার ফিরলো জামায়াতের প্রার্থী

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১১:০৯, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আবার ফিরলো জামায়াতের প্রার্থী

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নির্বাচন ঘিরে নাটকীয়তা যেন থামছেই না। একের পর এক সিদ্ধান্ত বদলে জোট রাজনীতিতে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। 

সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এ আসনে আবারও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়াকে মাঠে নামানো হয়েছে।

এর আগে প্রতীক বরাদ্দের পর জোটের শরিক দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শিবলীকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনটি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয় জামায়াতে ইসলামী। সে সিদ্ধান্তের পরপরই দলটির তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ এ সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি বলে জানা যায়।

বিশেষ করে ব্যালটে জামায়াতের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা থাকায় দলীয় কর্মীরা শুরু থেকেই দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণসংযোগ চালিয়ে যান। তারা দাবি করেন, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও জনসম্পৃক্ততার বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়েই হঠাৎ করে প্রার্থী পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মনোবল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তৃণমূলের এই প্রতিক্রিয়া এবং ভেতরের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত আবারও সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হয় জামায়াতে ইসলামী। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জোটের ভেতরে পুনর্বিবেচনার পর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে জামায়াতই প্রার্থী দেবে এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “এর আগে জোটগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসনটি ছেড়ে দেওয়ার কথা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি ও সাংগঠনিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি এ আসন থেকে নির্বাচন করছি।”

তবে একাধিকবার প্রার্থী ও আসন ভাগাভাগি নিয়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে দল ও জোট—উভয় পর্যায়েই অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের মাঝেও বার্তা পৌঁছাতে সমস্যা হচ্ছে বলে তাদের ধারণা।

এদিকে ১১ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে নীরব আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন, সময়মতো সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না থাকায় জোটের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও সমন্বয় প্রশ্নের মুখে পড়ছে।
সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে প্রার্থী নিয়ে এই দফায়ও নাটকীয় মোড় নিল জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের রাজনীতি। শেষ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কতটা প্রভাব ফেলবে ভোটের মাঠে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে স্থানীয় রাজনীতি।