বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

|

মাঘ ১৫ ১৪৩২

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নারায়ণগঞ্জে সাত লাখ শিশুর সবজিতে অনীহা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১১:২৭, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে সাত লাখ শিশুর সবজিতে অনীহা

ফাইল ছবি

ছয় বছরের রাশিদ। ক্লাস ওয়ানের শিক্ষার্থী। তার পাতে সবজি থাকে না মাসজুড়েই। পাতে সবজি দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নেয়।

বায়না ধরে না খাওয়ার। চিকেন ফ্রাই, চিকেন কারি তার পছন্দের খাবার। জোর করেও তাকে সবজি খাওয়ানো যায় না। রাশিদের মতো নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রায় সাত লাখ শিশুর সবজির প্রতি অনীহা।

সবজি যেন তাদের শত্রু। সবজি না খাওয়ার কারণে শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
পুষ্টিবিদরা বলছেন, সবজি না খাওয়ার কারণে শিশুরা অল্প বয়সে মস্তিষ্ক, ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্যসহ নানা রোগে ভুগছে। পাশাপাশি ফাস্ট ফুড, জাংকফুড খাওয়ার কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ জেলার মোট জনসখ্যা ৪০ লাখ। জেলায় বার্ষিক সবজির চাহিদা প্রায় দুই লাখ ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন। বার্ষিক উউৎদন হয় প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন। আর ঘাটতির পরিমাণ এক লাখ ২০ হাজার থেকে এক লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন।

জনশুমারির তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জ জেলায় শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশুর সংখা প্রায় ছয় লাখ ৮৪ হাজার ৪৮৪ জন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ জেলার মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৬.৮ ভাগ হলো (০-৪ বছর) বয়সী শিশু। সেই হিসাবে চার থেকে ১২ বছর বয়সীদের সংখ্যা আনুমানিক সাত লাখ। গেগ্লাবাল হেলথ সার্ভে অনুযায়ী, সাত লাখ শিশুর মধ্যে ৪৭ ভাগ দৈনিক দরকারি সবজি খায় না। ৪০ ভাগ শিশু সপ্তাহে দুবার সবজি খায়। আর আট ভাগ শিশু সর্ম্পূণভাবে সবজি খায় না। এরা সবজির বদলে পাতে মুরগি, চিকেন ফ্রাই রাখে। সপ্তাহে অন্তত দুদিন তাদের মুরগি লাগে।

গ্লোবাল ডেটা বলছে, সবজি না খাওয়ার কারণে ৩৪ ভাগ শিশু ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছে। ২৮ ভাগ শিশু ইমিউন সিস্টেমে, ১২ ভাগ শিশু আয়রনের ঘাটতি, আট ভাগ শিশু হাইট-ওয়েটের সমস্যা আর ১৫ ভাগ শিশু চর্ম, হেয়ার ঘাটতির সমসায় ভুগছে। সবজি না খাওয়ার কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’র অভাবে ঘনঘন সদি-কাশি এসব সংক্রামক রোগে ভোগে। সবজি না খেয়ে শিশুরা জাংকফুডের দিকে ঝুঁকছে। ফলে স্থূলতা এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ছে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, জেলার ৫০ ভাগ শিশু কোনো না কোনোভাবে রক্তস্বল্পতায় ভুগছে।

রূপগঞ্জের বাইট শিশু কানন হাই স্কুলের প্লে থেকে চর্তুথ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওপর টানা চার দিন জরিপ করে দেখা গেছে, চার দিনে কোনো শিশুই সবজি খায়নি। কথা হয় স্কুলের শিক্ষার্থী রাশিদ, তাসকিন, নুসরাতের সঙ্গে। তারা বলে, ‘আমাদের মুরগি পছন্দ। সবজি ভালো লাগে না।’

কথা হয় গোলাকান্দাইল মেমোরি হাসপাতালের ডা. ফেরদৌসের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আসলে আমাদের কাছে যত শিশুরোগী আসে তাদের অধিকাংশই ক্রনিক কোষ্ঠকাঠিন্য, মস্তিষ্ক সমসাসহ নানা রোগে ভুগছে।’

রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. বাদল জানান, ‘আমাদের সরকারি হাসপাতালে সাধারণত অসহায় ও গরিব রোগী বেশি আসে। আমি অনেক শিশুর সঙ্গে কথা বলে দেখেছি, তারা সবজি খায় না। সবজির প্রতি তাদের অনীহা। সরকারের উচিত এ বিষয়টা নিয়ে ভূমিকা রাখা।’