শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

|

শ্রাবণ ২৯ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নারায়ণগঞ্জের ৩৩ সিএনজি পাম্পের ৩০টিতেই ‘গ্যাস নেই’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১০:৩১, ১৪ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১২:২৩, ১৪ আগস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ৩৩ সিএনজি পাম্পের ৩০টিতেই ‘গ্যাস নেই’

প্রতীকী ছবি

গ্যাসের চাপ না থাকায় নারায়ণগঞ্জের ৩৩ সিএনজি পাম্পের ৩০টিই বন্ধ। বাকি তিন পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন সিএনজিচালিত যানের চালকেরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও গ্যাস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ অনেকের।

বাংলাদেশ সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ জোনের সভাপতি সাঈদা আক্তার স্ট্রিমকে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে মোট পাম্প ৩৩। গ্যাস না থাকায় এর মধ্যে ৩০টি এখন বন্ধ।’

তিনি বলেন, চলমান গ্যাস সংকট কবে কাটবে, সরকার এখনো কোনো তথ্য দেয়নি। দ্রুত সংকট সমাধানের জন্য পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

বুধবার সরেজমিনে নারায়ণগঞ্জের কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। ভোরে পাম্পে সিরিয়াল দেন অনেকে। গ্যাস নিতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা যাওয়ায় যাত্রী পরিবহনের সময় পাচ্ছেন না চালকেরা। কমে যাচ্ছে আয়। এতে বিপাকে পড়েছেন ভাড়ায় চালানো চালকেরা। তারা মালিককে দৈনিক ভাড়া পরিশোধ করতে পারছেন না।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়কের সস্তাপুর এলাকায় গাড়ির সারিতে বসে থাকা অটোচালক মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে পাম্পে গ্যাসের চাপ একেবারেই কম। বেলা ১১টার পর আর গ্যাস পাওয়া যায় না। সকাল ৭টায় এসে বসে আছি। দুপুর দেড়টা বাজে এখনো গ্যাস পাইনি। গাড়িই চালাতে পারছি না। আয় করব কীভাবে?’

শিবু মার্কেট এলাকার একটি পাম্পে স্ট্রিমের সঙ্গে কথা হয় প্রাইভেটকার চালক দুলাল হোসেনের। তিনি বলেন, ‘প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা লাইনে থাকার পর পাম্পের ভেতরে ঢুকতে পেরেছি। এরপরও গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। কয়েক দিন ধরে গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ি চালাতে পারছি না, মালিকের ভাড়া দিতে পারছি না।’

মাস সিএনজি ওয়ার্কার্স লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ার কাজী রাকিবুল ইসলাম স্ট্রিমকে বলেন, গত তিন-চার দিন ধরে স্টেশনে গ্যাসের চাপ একেবারেই নেই। গ্রাহকেরা ফিরে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘সাধারণত একটি সিএনজি অটোরিকশায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার গ্যাস দেওয়া যায়। কিন্তু সংকটের কারণে ১০০ টাকার গ্যাসও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের গ্যাস লাইনে সাধারণত প্রায় ১৫ পিএসআই চাপ থাকে। সেখানে এখন এক পিএসআই চাপও নেই। সকাল থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা গ্যাস বন্ধ ছিল। এ বিষয়ে আমরা কোনো নোটিশও পাইনি।’

শাহাবুদ্দিন সিএনজি ফিলিং স্টেশনের স্টাফ মোহাম্মদ নাজমুল হুদা বলেন, ‘গত দুই দিন ধরে লাইনে গ্যাসের চাপ কম। ঢাকার দিকে গ্যাস না থাকায় সেখানকার গাড়িগুলোও নারায়ণগঞ্জের দিকে আসছে। এতে স্টেশনগুলোতে গাড়ির চাপ আরও বেড়েছে। কিন্তু গ্যাসের চাপ এত কম যে পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’

এদিকে, তিতাসের নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের ডিজিএম মনজুর আজিজ মোহন স্ট্রিমকে বলেন, এলএনজি সরবরাহের প্রধান উৎস এফএসআরইউর দুটি ইউনিটের একটিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। সেটি মেরামত শেষে নতুন করে সংযোগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এই কারণে গ্যাস সরবরাহে স্বল্পতা তৈরি হয়েছে।

আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে পারে বলে জানান তিনি।