শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

|

শ্রাবণ ২৯ ১৪৩৩

Advertisement
Narayanganj Post :: নারায়ণগঞ্জ পোস্ট

নারায়ণগঞ্জে কমেছে কাঁচা মরিচের দাম, বাজারে ফিরছে স্বস্তি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

প্রকাশিত: ১১:৪৮, ১৪ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১২:২২, ১৪ আগস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে কমেছে কাঁচা মরিচের দাম, বাজারে ফিরছে স্বস্তি

ফাইল ছবি

সরবরাহ বাড়ায় নারায়ণগঞ্জের বাজারে কাঁচা মরিচের দামে বড় ধরনের পতন দেখা দিয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ৩০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে পণ্যটির দাম। হঠাৎ এই দরপতনে স্বস্তি ফিরেছে ক্রেতাদের মধ্যে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ শহরের দিগুবাবুর বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে এসব বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অথচ দুই সপ্তাহ আগেও বাজারভেদে একই কাঁচা মরিচের দাম ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। সে হিসাবে অল্প সময়ের মধ্যেই কেজিতে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে।

দাম কমায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। কয়েকজন ক্রেতা জানান, কিছুদিন আগেও কাঁচা মরিচের অস্বাভাবিক দাম থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী কিনতে পারছিলেন না। এখন দাম কমে আসায় দৈনন্দিন বাজারের খরচ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে।

দিগুবাবুর বাজারের এক কাঁচা মরিচ বিক্রেতা বলেন, “কয়েক দিন আগেও মরিচের দাম অনেক বেশি ছিল। এখন পাইকারি বাজারেই দাম কমেছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে সরবরাহ বাড়ায় আমরাও তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করতে পারছি।”

আরেক বিক্রেতার ভাষ্য, বাজারে দেশি মরিচের পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি করা কাঁচা মরিচও আসছে। ফলে সরবরাহে ঘাটতি না থাকায় দামও আগের মতো চড়া নেই।

বাজার করতে আসা এক ক্রেতা বলেন, “কাঁচা মরিচের দাম যখন ৪০০ টাকার ওপরে উঠেছিল, তখন অল্প করে কিনতে হয়েছে। এখন ১০০-১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। দামটা এভাবে থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য ভালো হয়।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচা মরিচ দ্রুত পচনশীল হওয়ায় সরবরাহ ও চাহিদার সামান্য পরিবর্তনেও দামে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন উৎপাদন এলাকা থেকে সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি আমদানি অব্যাহত থাকায় বাজারে পণ্যটির সংকট কমেছে।

তবে বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, কাঁচা মরিচসহ অন্যান্য পচনশীল কৃষিপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে শুধু আমদানির ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা গেলে হঠাৎ সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

তাদের মতে, নারায়ণগঞ্জের মতো বড় ভোগ্যপণ্যের বাজারে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়মিত নজরদারির আওতায় রাখা গেলে কাঁচা মরিচের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।